২০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে আজও জনপ্রিয় মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়
মানিকগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়ের ব্যস্ত মৌসুম: বিক্রি ও বাজারজাতকরণে জমেছে দর্শনার্থীদের ভিড়
- আপডেট সময় : ১২:২২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০৭ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
“হাজারী গুড়”—একটি নাম, একটি পরিচিতি, একটি ইতিহাস ও একটি ঐতিহ্য। প্রায় দুইশত বছরের প্রাচীন এই ঐতিহ্যবাহী গুড় মানিকগঞ্জ জেলার ঝিটকা এলাকার হাজারী পল্লীকে আজও পরিচিত করে রেখেছে দেশ-বিদেশে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনামলে ব্রিটেনের রাণী এলিজাবেথের নিকট উপঢৌকন হিসেবে পাঠানো হয়েছিল এই বিশেষ “হাজারী গুড়”। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা আজও বহন করে চলেছে হাজারী পরিবার।
শীত মৌসুমের ভোরে গাছিরা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে মাটির চুলায় ধানের খড় ও বন জ্বালানি ব্যবহার করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করেন এই গুড়। প্রায় ১২ লিটার খেজুরের রস থেকে তৈরি হয় ১ কেজি হাজারী গুড়।
বর্তমান হাজারী গুড়ের পরিচালক মোঃ শামিম হাজারী জানান, হাজারী সিল, ফিটনেস লাইসেন্স এবং হাজারী পরিবারের অনুমতি ছাড়া এই গুড় বিক্রির কোনো বৈধতা নেই।
এখানকার প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার সরাসরি এই পেশার সঙ্গে জড়িত। হাজারী পল্লীর সিদ্দীক গাজী জানান, গত ১৫-২০ দিন ধরে হাজারী গুড়ের বিক্রি ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে এবং শীতকালজুড়ে প্রায় চার মাস এ মৌসুম চলবে। বর্তমানে প্রতি কেজি গুড় ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অনলাইন মাধ্যমেও দেশ ও দেশের বাইরে এই গুড় পাঠানো হচ্ছে।
ঝিটকার সানোয়ার হোসেন জানান, হাজারী গুড়ের সুনাম ইতোমধ্যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই হাজারী পল্লীতে উৎসবমুখর পরিবেশে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়বে।
তবে সুফলভোগীরা জানান, দিন দিন গাছির সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং অনেকেই গুড় তৈরিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। সরকারি উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়লে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আরও বিকশিত হবে বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাজারী গুড় মানিকগঞ্জ জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বড় নিদর্শন। ভেজাল গুড় নির্মূলে প্রশাসন সবসময় তৎপর রয়েছে।






















