টিকা সংকট ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলনে ব্যাহত ইপিআই কার্যক্রম, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা
ভূরুঙ্গামারী হাসপাতালে পেন্টাভেলেন্ট টিকার সংকট, স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলনে ঝুঁকিতে শিশুদের জীবন
- আপডেট সময় : ০৬:০৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ৫০ বার পড়া হয়েছে

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পেন্টাভেলেন্ট টিকার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে টিকা সরবরাহ বন্ধ থাকায় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে উপজেলার শত শত শিশু নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা না পাওয়ায় তাদের জীবন ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পেন্টাভেলেন্ট টিকা শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই একটি টিকার মাধ্যমেই শিশু ডিপথেরিয়া, পারটুসিস (হুপিং কাশি), টিটেনাস, হেপাটাইটিস বি এবং হিব (Haemophilus influenzae type b) —এই পাঁচটি মারাত্মক রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা পেয়ে থাকে। হিব জীবাণু নিউমোনিয়া ও মেনিনজাইটিসের মতো প্রাণঘাতী রোগের কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশে ব্যবহৃত পেন্টাভেলেন্ট টিকা দেশীয়ভাবে উৎপাদিত নয়। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এসব টিকা ইউনিসেফ (UNICEF)–এর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়াও ইউরোপ ও ইন্দোনেশিয়ার অনুমোদিত ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান থেকে আমদানি করা এসব টিকা গাভি (GAVI – The Vaccine Alliance)–এর সহায়তায় দেশের সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী শিশুদের ৬ সপ্তাহ, ১০ সপ্তাহ ও ১৪ সপ্তাহ বয়সে তিন ডোজ পেন্টাভেলেন্ট টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও সংকটের কারণে অনেক শিশু নির্ধারিত সময় পার করেও টিকা পাচ্ছে না। ভূরুঙ্গামারীর একাধিক অভিভাবক জানান, টিকা নিতে এসে বারবার ফিরে যেতে হচ্ছে, যা তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবু সাজ্জাদ মোহাম্মদ সায়েম জানান, সারাদেশে টিকা আমদানি বন্ধ থাকায় সাময়িকভাবে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে টিকা পৌঁছালেও এখনো ভূরুঙ্গামারী হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়নি। তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য সহকারীদের চলমান আন্দোলনের কারণে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে দ্রুত পেন্টাভেলেন্ট টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ ও টিকাদান কার্যক্রম স্বাভাবিক করা জরুরি। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।






















