রুহিতার চরের মালিকানা বিরোধে দুই উপজেলার কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
বেতাগীতে রুহিতার চরের সীমানা নির্ধারণ ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন-অবস্থান কর্মসূচি
- আপডেট সময় : ০৬:৪৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪১ বার পড়া হয়েছে

বরগুনার বেতাগী ও বামনা উপজেলার মধ্যবর্তী বিষখালী নদীতে জেগে ওঠা রুহিতার চরের স্থায়ী সীমানা নির্ধারণ এবং বিরোধপূর্ণ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে উপজেলার সর্বস্তরের নাগরিকদের ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে রুহিতার চরের জমি নিয়ে বেতাগী ও বামনা উপজেলার মধ্যে বিরোধ চলমান থাকায় স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রুহিতার চরের জমি দুই উপজেলার মানুষ সমানভাবে ভোগদখল করে আসছিল। তবে গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বামনা উপজেলার লোকজন পুরো চর দখল করে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় বেতাগী উপজেলার মানুষের ধান-ডালসহ বিভিন্ন ফসল লুটপাট করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বেতাগীর একাধিক গ্রাম নদীভাঙনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বহু পরিবার ভূমিহীন হয়ে পড়েছে। মূলত রুহিতার চরের একটি বড় অংশ বেতাগী মৌজার অন্তর্ভুক্ত হলেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল জোরপূর্বক চরটি দখলের চেষ্টা করছে।
নদীর দুই তীরের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই বেতাগী উপজেলার কালিকাবাড়ী এলাকার কৃষকরা পাওয়ার ট্রিলার ও মাহিন্দ্রা নিয়ে চরে চাষ করতে গেলে বামনা উপজেলার লোকজন তাদের কয়েকটি যানবাহনসহ দুইজন চাষিকে আটক করে। এর প্রতিশোধ হিসেবে বেতাগীর কৃষকরা বামনার কৃষকদের প্রায় একশত মহিষ নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বিষয়টি দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের জানানো হলে গত ৩০ জুলাই উভয় পক্ষকে ডেকে চলতি মৌসুমে চর মেপে সীমানা নির্ধারণের আশ্বাস দেওয়া হয়।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বামনা উপজেলার পূর্ব সফিপুর গ্রামের মো. হারুণ মল্লিক ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় বেতাগী উপজেলার ২২ জন কৃষকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা এসব মামলা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে দুই উপজেলার ইউএনও, এসিল্যান্ড ও ওসিদের নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানে পৌঁছানো হবে।






















