চাকরি-বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় ডিএমটিসিএল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা
শুক্রবার থেকে মেট্রোরেল যাত্রীসেবা বন্ধ: চাকরি-বিধিমালা না হওয়ায় ডিএমটিসিএল কর্মচারীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি
- আপডেট সময় : ০৪:১৩:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৮ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পূর্বঘোষিত আল্টিমেটাম অনুযায়ী আগামী শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি এবং মেট্রোরেলের সব ধরনের যাত্রীসেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির বিষয়টি জানানো হয়।
কর্মচারীরা জানান, ২০১৩ সালে ডিএমটিসিএল প্রতিষ্ঠার পর ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির ৯০০–র বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই তারা ছুটি, সিপিএফ, গ্র্যাচুইটি, শিফট অ্যালাউন্স/ওভারটাইম, গ্রুপ ইনস্যুরেন্সসহ মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সার্ভিস রুল প্রণয়ন করার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কর্মচারীরা আন্দোলনে নামলে, ২০ ফেব্রুয়ারি কর্তৃপক্ষ ২০ মার্চের মধ্যে চাকরি-বিধিমালা চূড়ান্তের আশ্বাস দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
তারা অভিযোগ করেন, ‘বিশেষ বিধান’ সংক্রান্ত অধ্যায়টি—যেখানে মেট্রোরেল প্রকল্পের জনবলকে ডিএমটিসিএলে আত্মীকরণের প্রসঙ্গ আছে—এটি প্রচলিত আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সাথে সাংঘর্ষিক। পরিচালনা পর্ষদ বিতর্কিত বিধান অপসারণে আগ্রহী হলেও ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষের চাপের কারণে সার্ভিস রুল প্রকাশে দেরি হচ্ছে।
এদিকে যাত্রীসেবা বন্ধ থাকায় মেট্রোরেল ব্যবহারকারী কয়েক লাখ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কর্মচারীরা দাবি করছেন, পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।
নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতির পাশাপাশি প্রতিদিন ডিএমটিসিএল প্রধান কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। তাদের দাবি—স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা ছাড়া ক্যারিয়ার, বেতন-সুবিধা এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত নয়। তাই ‘আর কোনো আশ্বাস নয়, প্রকাশিত সার্ভিস রুল ছাড়া কোনো সমাধান নয়’।
কর্মচারীরা শুক্রবার থেকে মেট্রোরেল যাত্রীসেবা বন্ধসহ সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। এতে কয়েক লাখ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।






















