“চাঁদা না দিলে দোকানে তালা, পরিবারের ওপর হুমকি”—ভুক্তভোগী রুবেলের অভিযোগ
রাজশাহীতে চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ: ক্ষতবিক্ষত ব্যবসায়ীর দোকানে তালা, ন্যায়বিচারের দাবি
- আপডেট সময় : ০৩:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ৭২ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীতে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ওপর চাঁদাবাজি, হামলা, দোকান দখল এবং পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন চন্দ্রিমা থানার আসাম কলোনী বউবাজার এলাকার মো. রুবেল (৪২)।
লিখিত বক্তব্যে রুবেল বলেন, শালবাগান পাওয়ার হাউজ মোড়ে তিনি ‘দরিদ্র ভাংড়ি কাগজ ঘর’ নামে দোকান চালান। ভাংড়ি ও পুরাতন কাগজ কেনাবেচার মাধ্যমে তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। দীর্ঘদিন ধরে বাবু, জয়নালসহ একটি চক্র তার কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়।
রুবেল অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট ২০২৫ বিকেল ৩টার দিকে বাবু ও জয়নাল তার দোকানে এসে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে জিআই পাইপ ও রড দিয়ে তাকে মারধর করা হয় এবং দোকানে তালা লাগানো হয়। হামলার সময় তারা দাবি করে—মার্কেট সভাপতি সিজার নাকি তাকে মারধরের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখেছেন।
মারধরের পর তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং থানায় অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দোকান তিন মাস বন্ধ থাকে এবং বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি। পরে আপোষের নামে ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে এক লাখ টাকা বিবাদীদের দেন। এরপর দোকানের তালা খোলা হয়।
কিন্তু ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ দুপুর ১টার দিকে একই চক্র আবারও দোকানে গিয়ে আরও এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। সে সময় রুবেলের ছেলে সিয়াম ও দোকানের কর্মচারী সেখানে ছিলেন। তাদের জোর করে বের করে দিয়ে দোকানে চারটি তালা ঝুলিয়ে চাবি নিয়ে যায় চক্রটি।
এ বিষয়ে মার্কেট সভাপতি সিজারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান—“উপরমহলের নির্দেশে তালা মারা হয়েছে।” পরে আর ফোন রিসিভ করেননি।
সংবাদ সম্মেলনে রুবেল আশঙ্কা প্রকাশ করেন, চক্রটি তার দোকানের মালামাল লুট করতে পারে বা দোকানে অবৈধ কিছু রেখে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে পারে। তিনি বলেন, থানায় অভিযোগ না নিয়ে উল্টো চাঁদাবাজদের পক্ষ নিয়ে তাদের মামলায় তার কলেজপড়ুয়া সন্তানদের আসামি করা হয়েছে। দোকান উদ্ধারের জন্য পুলিশ কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, “দোকান দখল বা চাঁদাবাজির বিষয়গুলো সম্পর্কে আমি জানি না। কয়েকদিন হলো যোগদান করেছি। মারামারির ঘটনায় একটি মামলা নেওয়া হয়েছে। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মার্কেট সভাপতি সিজারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী রুবেল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে চক্রটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, দোকান উদ্ধারের পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।






















