সহকারি শিক্ষক তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের প্রতি দুর্ব্যবহারের অভিযোগ; মাঠে নেমেছে তদন্ত কমিটি
কোটালীপাড়ায় সহকারি শিক্ষক তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, দুই তদন্ত কমিটি গঠন
- আপডেট সময় : ১০:১২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬৪ বার পড়া হয়েছে

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ৬ নং ঘাঘরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে স্থায়ী বদলীর দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এলাকাবাসী। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা অফিস পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক তপতী বাড়ৈ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত পাঠদান না করে ইচ্ছেমতো বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের অযথা ধমক-দামড়াসহ আতঙ্কের মধ্যে রাখেন। তার আচরণের কারণে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা নীরব থাকতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নমিতা মণ্ডল বলেন, “আমি গত বছর এই বিদ্যালয়ে যোগদান করি এবং তার কাছ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করি। কিন্তু তিনি আর্থিক বিষয়সহ বিভিন্ন হিসাব ঠিকভাবে বুঝিয়ে দিতে পারেননি। বিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলা মানেন না, ইচ্ছেমতো বিদ্যালয় ত্যাগ করেন এবং শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত ক্লাসও নেন না। তার বিষয়ে একাধিকবার শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানিয়েছি, কিন্তু তাকে বোঝানো সম্ভব হয়নি।”
তিনি আরও জানান, ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি তপতী বাড়ৈ এখানে যোগদানের পর থেকে তার আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষক বিদ্যালয় ত্যাগ করেছেন।
অভিভাবক শাহাদাত গাজী বলেন, “তপতী বাড়ৈ একজন শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। ক্লাসে গিয়ে পড়াশোনার পরিবর্তে বকাঝকা করে ছাত্রছাত্রীদের আতঙ্কে রাখেন। বহুবার অভিযোগ দিয়েও কোনও ব্যবস্থা হয়নি। তিনি অভিযোগ দিলে উল্টো ভয়ভীতি দেখান। দ্রুত তাকে বদলি না করলে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর মা বলেন, “তপতী ম্যাডাম নিজেকে বড় কর্মকর্তা মনে করেন। তাকে কিছু বললে উল্টো অভিভাবকদের অপমান করেন। এমন ব্যক্তি কীভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করেন তা বুঝতে পারি না।”
অভিযুক্ত শিক্ষক তপতী বাড়ৈ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “যা বলার তদন্ত কমিটির কাছেই বলব।”
উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জন বলেন, “এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ইউএনও অফিস থেকে তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুইজন সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ১১ নভেম্বর তদন্ত পরিচালনা করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”






















