চাঁদার টাকা না দেওয়ায় হামলা—আদালতে মামলা গ্রহণ, এলাকায় চাঞ্চল্য
মণিরামপুরে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর ও হত্যার হুমকি: তপুর বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় : ০৯:২৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২ বার পড়া হয়েছে

যশোরের মণিরামপুরে চাঁদার টাকা না পেয়ে রুহুল কুদ্দুস (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে মেহেদী হাসান তপু (৩৫)সহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের হয়েছে। মণিরামপুর আমলি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের কিটনাশক ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান তপু দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার মৃত ইফাজতুল্লাহর ছেলে রুহুল কুদ্দুসের কাছে এক লক্ষ টাকার চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। এতে কুদ্দুসের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭ নভেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় শ্যামকুড় স্কুল মোড় এলাকায় পূর্ব থেকে ওঁত পেতে থাকা তপু, তার বাবা মাহবুবুর রহমান ও সহযোগী জাহিদ হাসান কুদ্দুসের গতিরোধ করেন। চাঁদার দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় প্রথমে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং পরে এলোপাতাড়ি কিল–ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। এতে কুদ্দুস মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসময় মাহবুবুর রহমান হত্যার উদ্দেশ্যে তার গলায় চাপ প্রয়োগ করেন।
হামলায় রুহুল কুদ্দুসের মুখমণ্ডলের বাম পাশের চোয়াল ভেঙে যায় এবং দাঁত উপড়ে পড়ে। রক্তক্ষরণে অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কিন্তু আসামিরা তাদেরও ধমক দিয়ে পরিচয় প্রকাশ না করতে হুমকি দেন।
এম্বুলেন্স ডাকলেও তপু ও তার সহযোগীরা বাধা সৃষ্টি করেন এবং পথিমধ্যে অ্যাম্বুলেন্স ভেঙে ফেলার হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ রয়েছে। এতে ড্রাইভার ভয়ে কুদ্দুসকে বহন করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
রুহুল কুদ্দুসের ছেলে মেহেদি জানান, “চাঁদাবাজ তপু ও তার লোকজন আমার বাবাকে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হতে না দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। পরে গোপনীয়ভাবে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জরুরি চিকিৎসা দেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে রেফার করেন।”
ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত তা গ্রহণ করেন। এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি জানান, তপুর বিরুদ্ধে পূর্বেও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল, কিন্তু অর্থ ও প্রভাব খাটিয়ে বহুবারই সে দায়মুক্তি পেয়েছে। ফলে কেউই তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না






















