চন্দ্রডিঙ্গায় কৃষকদের অংশগ্রহণে প্রাকৃতিক উপায়ে বালাই দমন ও জৈব কৃষি প্রসারে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ
চন্দ্রডিঙ্গায় বিশ্ব কীটনাশক মুক্ত দিবসে জৈব বালাইনাশক তৈরির প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ০৬:১৯:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ৭৯ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার চন্দ্রডিঙ্গা গ্রামে বিশ্ব কীটনাশক মুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও জৈব বালাইনাশক তৈরির ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বারসিক ও গ্রিন কোয়ালিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক–কৃষাণীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বারসিকের উপজেলা সমন্বয়কারী গুঞ্জন রেমা। দিবসটির গুরুত্ব, উদ্দেশ্য ও বর্তমান কৃষি প্রেক্ষাপটে জৈব পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার মো. আলগীর। তিনি বলেন, “কীটনাশক শুধু পরিবেশ ও মাটির ক্ষতি করে না; এটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। তাই জৈব কৃষি সম্প্রসারণ অত্যন্ত প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাধ রক্ষা কৃষক সংগঠনের সভাপতি সুনীল ম্রং। তিনি বলেন, “স্থানীয় কৃষকরা অতীতে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে বালাই দমন করতেন। সেই নিরাপদ কৃষি জ্ঞান আবারও মাঠে ফিরিয়ে আনার এখনই সঠিক সময়।”
লেঙ্গুরা কৃষিপ্রতিবেশ বিদ্যা শিখন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক নারায়ণ হাজং কৃষকদের নিয়ে জৈব বালাইনাশক তৈরির সরাসরি প্রদর্শনী করেন। নিমপাতা, মরিচ, রসুন, পেঁয়াজের খোসা, তামাকপাতা, মেহগনির বীজ, হেগরাপাতা ও আতাফল পাতাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে কীভাবে কার্যকর বালাইনাশক তৈরি করা যায় তা তিনি ধাপে ধাপে দেখান। পাশাপাশি হলুদ চার্ট, সাদা চার্ট ও সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহারের পদ্ধতি ও উপকারিতা তুলে ধরেন।
নারায়ণ হাজং তাঁর পরিচালিত মরিচ গবেষণার বাস্তব অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন। তিনি জানান, “প্রাকৃতিক উপায়ে জাবপোকাসহ বিভিন্ন বালাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়, এতে উৎপাদিত মরিচ থাকে শতভাগ কীটনাশকমুক্ত এবং ফলনও ভালো হয়।” কৃষকরা তাঁর অভিজ্ঞতা শুনে নিজের জমিতে এসব কৌশল প্রয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রশিক্ষণ শেষে আগ্রহী কৃষকদের মাঝে ১০টি সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ বিতরণ করা হয়।
বারসিক ও গ্রিন কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে বেনুকা ম্রং বলেন, “নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জৈব কৃষি চর্চা বাড়াতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনুষ্ঠান অব্যাহত থাকবে।”






















