বেলজিয়াম হাঁস পালন ও আধুনিক হ্যাচারী ব্যবসায় তরুণ জাহিদের বছরে আয় ২৪ লাখ টাকা
সিংড়ার জাহিদের বেলজিয়াম হাঁস খামারে বছরে ২৪ লাখ আয়: তরুণ উদ্যোক্তার অনন্য সাফল্য
- আপডেট সময় : ০৯:০২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫ ৫৬ বার পড়া হয়েছে

নাটোরের সিংড়ার নুরপুর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা জাহিদ হাসান বেলজিয়াম জাতের হাঁস পালন ও আধুনিক হ্যাচারী ব্যবসায় তৈরি করেছেন ব্যতিক্রমী সাফল্যের গল্প। একসময় ৮ লাখ টাকার ঋণে জর্জরিত জাহিদ আজ নিজ উদ্যোগে বছরে আয় করছেন ২৪ লাখ টাকারও বেশি।
প্রায় ৭–৮ বছর আগে শুরু হওয়া তার উদ্যোক্তা যাত্রা ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা। হতাশার সেই সময়ে পাশে দাঁড়ান প্রবাসী দুলাভাই আবু হাসান। তাঁর আর্থিক সহায়তা ও অনুপ্রেরণায় মাত্র ১০০টি বেলজিয়াম হাঁস কিনে জাহিদের যাত্রা শুরু। সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু।
বর্তমানে তিনি হাঁস খামারের পাশাপাশি নুরপুর বাজারে প্রতিষ্ঠা করেছেন আধুনিক বাচ্চা ফুটানোর কেন্দ্র ‘চলনবিল হ্যাচারী’। খামার ও হ্যাচারী উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর পার্টনার দুলাভাই আবু হাসান। এখন তাদের খামারে রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি হাঁস।
জাহিদের ভাষ্য, বেলজিয়াম জাতের হাঁস দ্রুত বাড়ে এবং অত্যন্ত লাভজনক।
৪৫ দিনেই একটি হাঁসের ওজন পৌঁছায় প্রায় ৩ কেজিতে, আর পরিপক্ব অবস্থায় দাঁড়ায় ৪–৫ কেজিতে।
একটি ডিম বিক্রি হয় ৪০–৮০ টাকা এবং একটি বাচ্চা বিক্রি হয় ১৫০ টাকা। বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় অল্প সময়ে হাঁস, ডিম ও বাচ্চা বিক্রি করে পাওয়া যায় ভালো লাভ। খামার ও হ্যাচারী মিলিয়ে তাঁর মাসিক আয় এখন প্রায় দুই লাখ টাকা।
জাহিদের সফলতা দেখে এলাকায় অনেক বেকার যুবক এখন বেলজিয়াম হাঁস পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
সিংড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাশরিফুল ইসলাম বলেন,
“তরুণদের উদ্যোক্তা তৈরিতে আমরা ভ্যাকসিন, পরামর্শ ও টেকনিক্যাল সহায়তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়ে থাকি। সিংড়ায় বেলজিয়াম হাঁসের বড় খামারের সংখ্যা বেড়েছে, ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।”
জাহিদের এই সাফল্যের গল্প শুধু একজনের নয়—এটি সিংড়ার তরুণ সমাজকে নতুনভাবে বদলে দেওয়ার এক অনুপ্রেরণার নাম।






















