ছাইতনতলায় বাসের ধাক্কায় এক শিক্ষক নিহত, আহত এমদাদুল হক—স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ
ভোলাহাটে নাইটকোচের ধাক্কায় কলেজ শিক্ষক নিহত, আরোহী এমদাদ গুরুতর আহত
- আপডেট সময় : ১১:০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৪ বার পড়া হয়েছে

ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় ঢাকাগামী নাইটকোচ “ম্যাক্স এন্টারপ্রাইজ”–এর ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক কলেজ শিক্ষক ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। একই মোটরসাইকেলে থাকা এমএক্সএন মডার্ণ হারবাল ফুড লিমিটেডের ডিএস মোঃ এমদাদুল হক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, রোববার (৩০ নভেম্বর ২০২৫) রাত পৌনে ৮টার দিকে ভোলাহাটের ছাইতনতলা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষক মিঠুন কুমার দাস (৪৩) শিবগঞ্জ উপজেলার রানীহাটী কলেজের প্রভাষক এবং হরিনগর গ্রামের রতন কুমার দাসের ছেলে। আহত এমদাদুল হক (৩৭) নাচোলের কাজলা গ্রামের মুনসুর আলীর ছেলে।
তারা দুজনই ভোলাহাট-সন্ন্যাসীতলা এলাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে ঢাকাগামী “ম্যাক্স এন্টারপ্রাইজ” (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-১৬৬৩) কোচটি পিছন দিক থেকে মোটরসাইকেলটিকে জোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পর এমদাদুল হক ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং মিঠুন কুমার দাস রাস্তার উপর পড়ে গেলে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ভোলাহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত এসে আহত এমদাদুল হককে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোসাঃ জামিলা আক্তার জানান, “রোগী শঙ্কামুক্ত, বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল আছেন।”
এদিকে দুর্ঘটনার পর ভোলাহাট থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মতিউর রহমান, এসআই খাইরুল ইসলাম ও এসআই কামাল হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত নাইটকোচ এবং চালক মোঃ আব্দুর রহমানকে আটক করে হেফাজতে নেন।
তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রক্ত পরিষ্কার করার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এতে বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় ইট-পাটকেল ফেলে সাময়িক সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

ঘটনা সম্পর্কে ওসি মতিউর রহমান বলেন, “মোটরসাইকেলে থাকা দুইজনই একটি সেমিনার শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পিছন দিক থেকে নাইটকোচের ধাক্কায় মিঠুন কুমার দাস ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং এমদাদুল হক আহত হন। কোচ ও চালককে আটক করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরে নিহত মিঠুন কুমার দাসের মরদেহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।






















