বকেয়া পরিশোধ ও কাজে ফেরানোর দাবিতে উত্তাল ইপিজেড এলাকা
কুমিল্লা ইপিজেডে বেতন–ভাতার দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৬:৩২:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ২৯ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড)–এর ১ নম্বর ফটকের সামনে বকেয়া বেতন–ভাতা পরিশোধ ও কাজে পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন নাসা গ্রুপের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা। আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শ্রমিকরা ফটকের সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া মানববন্ধন পরে বিক্ষোভ মিছিলে রূপ নেয়।
নাসা স্পিনিং লিমিটেড, নাসা স্পিনারসসহ নাসা গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ধীরে ধীরে উৎপাদন কমাতে থাকে এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বন্ধ’ ঘোষণা করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠান বন্ধের পরও অনেক শ্রমিকের কয়েক মাসের বেতন–ভাতা অনাদায়ী রয়ে যায়।
শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, ব্যবস্থাপনা বারবার সময় দিলেও পাওনা পরিশোধের কোনো পরিষ্কার সিদ্ধান্ত জানায়নি। এর মধ্যে ২৯ নভেম্বর কোম্পানির নতুন নোটিশ প্রকাশের পর অসন্তোষ আরও বেড়ে যায়। শ্রমিকদের দাবি— নোটিশে বকেয়া পরিশোধের নির্দিষ্ট তারিখ বা নিশ্চয়তা উল্লেখ নেই।
মানববন্ধন শেষে হাজারো শ্রমিক বিক্ষোভে অংশ নেন। তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়—
“আমাদের দাবি মানতে হবে”,
“কাজ ফিরিয়ে দাও, না হলে বেতন–ভাতা দাও।”
এক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমডারে বেতন দিতে কন, পোলা–মাইয়া না খাইয়া আছে। নাসা গ্রুপের মালিক আসুক, সমাধান করুক। বেপজার লোকেরা শুধু মিথ্যা শান্তনা দেয়।”
আরেক শ্রমিক বলেন, “ঘর ভাড়া দিতে পারতেছি না। অনেকদিন চুলায় আগুন জ্বলে না। পাওনা ছাড়া ঘরে ফিরব না।”
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের উদ্দেশে বেপজার জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, “আপনাদের কষ্ট আমরা জানি। দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দয়া করে ধৈর্য ধরুন, দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা করছি।”
নাসা গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মেজর আব্দুল হাফিজ শ্রমিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “৩০ নভেম্বর বেতন–ভাতা দেওয়ার কথা থাকলেও কোম্পানি বড় চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে শ্রমিকদের ধৈর্যের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। সমস্যা সমাধানে কাজ হচ্ছে।”
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় দুপুর পর্যন্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ চললেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বেপজা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল।
শ্রমিকদের সর্বশেষ দাবি—
“বকেয়া পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করলেই ঘরে ফিরব।”
তারা সরকার, বেপজা এবং নাসা গ্রুপের মালিকপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।






















