ইয়াবা উদ্ধার ও অনিয়মের অভিযোগে র্যাব-১৫ এ নজিরবিহীন গণবদলি
ইয়াবা–অভিযান বিতর্ক: কক্সবাজারে অধিনায়কসহ র্যাব-১৫ এর ৩ শতাধিক সদস্য একযোগে বদলি
- আপডেট সময় : ০৮:৪৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ২৬ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার ও বান্দরবানভিত্তিক র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন–১৫ (র্যাব-১৫)-এ কর্মরত অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানসহ তিন শতাধিক সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। ইয়াবা উদ্ধারসংক্রান্ত অভিযোগ, আর্থিক অনিয়ম ও কয়েকটি বিতর্কিত অভিযানের পর সদর দপ্তরের তদন্তে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় এ অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে র্যাবের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে র্যাবের মিডিয়া উইং বলছে, বিষয়টি নিয়মিত বদলি প্রক্রিয়ার অংশ।
র্যাব সদর দপ্তরের তথ্য অনুসারে, ১৯ নভেম্বর জারি করা দুটি প্রজ্ঞাপনে মোট ৩৯৮ সদস্যকে বদলি করা হয়। পরে ২৭ নভেম্বর আরও ৭৪ সদস্যকে বদলি করা হয়। তিন দফা প্রজ্ঞাপনে বদলিকৃতদের মধ্যে তিন শতাধিক সদস্যই র্যাব-১৫ এ কর্মরত ছিলেন—যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এক ইউনিটে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক বছর দায়িত্ব পালনের পর র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নেয়ামুল হালিম খান পিএসসি, যিনি করোনাকালে যশোর সেনানিবাসের ৩৭ বীরের অধিনায়ক ছিলেন।
র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেকাব চৌধুরী বলেন, “এটি নিয়মিত বদলি কার্যক্রমের অংশ। তবে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
র্যাবের একাধিক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে র্যাব-১৫ এর বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ ওঠে। তদন্তে দুটি অভিযানের ঘটনায় গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
৭ সেপ্টেম্বর কুতুপালং পশ্চিম পাড়ায় র্যাব-১৫ দুই নারীকে ৮৯ হাজার ৬০০ ইয়াবাসহ আটক দেখালেও অভিযোগ ওঠে প্রকৃত উদ্ধার তার চেয়ে বেশি ছিল এবং প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় যুবদল নেতা হেলাল উদ্দিনের সহযোগী সেলিম উদ্দিনের নাম মামলায় ‘ভুল তথ্যে’ অন্তর্ভুক্ত করা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
২৬ সেপ্টেম্বর টেকনাফের লেদায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৫ যে জব্দতালিকা প্রকাশ করে, সেখানে ৭টি ইটের টুকরা ও ২টি কাঠের লাঠির উল্লেখ নিয়ে স্থানীয়ভাবে তীব্র সমালোচনা হয়। দুটি অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান। এসব ঘটনায় তার ঘনিষ্ঠ টেকনাফ এফএস কমান্ডার কর্পোরাল ইমামকে ‘মূল নেপথ্য ব্যক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে র্যাবের একাধিক সূত্র।
র্যাব-১৫ সদস্যদের বিরুদ্ধে ইয়াবা আত্মসাৎ, অনিয়ম, অসঙ্গতি ও তথ্য বিভ্রাটের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। র্যাব সদর দপ্তর জানিয়েছে, দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















