বিতর্কিত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারণায় ক্ষোভ—তৃণমূল নেতাদের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জোরদার
রাজশাহী-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলের ক্ষোভ: তালিকাভুক্ত মাদক গডফাদারের সঙ্গে প্রচারণায় বিতর্ক
- আপডেট সময় : ০৩:০২:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ৩১ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি | রাজশাহী প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-১ (তানোর–গোদাগাড়ী) আসনে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরীফ উদ্দিনকে নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিভাজন দেখা দিয়েছে। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে প্রতিদিনই বিক্ষোভ–সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তানোর উপজেলা সদরে মনোনীত প্রার্থী শরীফ উদ্দিন ও মনোনয়নবঞ্চিত অ্যাডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়, যা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
তৃণমূল নেতারা অভিযোগ করছেন—ঘোষিত প্রার্থী শরীফ উদ্দিন ঢাকায় অবস্থান করলেও এলাকায় তিনি বিএনপির ঐতিহ্যবিরোধী আচরণ করছেন। এমনকি স্থানীয়ভাবে পুলিশের তালিকাভুক্ত এক সময়ের আলোচিত “মাদকের গডফাদার” হিসেবে পরিচিত নওশাদ জামাতকে সঙ্গে নিয়ে ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ঘোষণা করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নেতাদের দাবি, এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে রাজনৈতিক প্রচারণায় যুক্ত করা দলের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।
এদিকে শরীফ উদ্দিনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে অতীতেও বিএনএম–এ যোগদান, আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ আচরণ এবং ৫ আগস্ট ২০২৪–এর পর চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের মতো কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব নথিপত্র স্থানীয় নেতারা দলীয় সভায় উপস্থাপন করেছেন বলেও জানা গেছে।
অ্যাডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেকের ওপর হামলার ঘটনাও তৃণমূলের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে। জানা যায়, বিএনপির “রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা” প্রচারণার অংশ হিসেবে লিফলেট বিতরণে গেলে সাবেক মেয়র ও বহিষ্কৃত নেতা মিজানুর রহমান মিজানের নির্দেশে তারেকের ওপর হামলা হয়। তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ—ঘোষিত প্রার্থীর অনুসারীদের এই আচরণ পুরোপুরি দলবিরোধী।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, মিজান দীর্ঘদিন ধরে হত্যা মামলার আসামি, দল থেকে বহিষ্কৃত এবং ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সখ্য বজায় রেখে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি—দলের দুঃসময়ে শরীফ উদ্দিন এলাকায় ছিলেন না এবং কর্মীদের পাশে দাঁড়াননি। ফলে তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা তীব্রভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। তাদের মতে, এ ধরনের প্রার্থীকে টিকিয়ে রাখলে রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে এবং পরাজয়ের ঝুঁকি বাড়বে।
সক্রিয়, সাংগঠনিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে থাকা অ্যাডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেককে মনোনয়ন দেয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তৃণমূল নেতারা। তাদের ভাষ্য—বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে প্রার্থী করে রাখলে এ আসনটি নিশ্চয়ই ঝুঁকির মুখে পড়বে।






















