ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষকের সরে যাওয়া—বাড়ছে আম বাগান উজাড়ের হার
রাজশাহীর চারঘাটে আম বাগান উজাড়: ন্যায্য দাম না পেয়ে অন্য ফসলে ঝুঁকছেন কৃষকরা
- আপডেট সময় : ০৫:০১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর চারঘাটে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় আম চাষে অনাগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কেটে ফেলা হচ্ছে বড় বড় আম বাগান। কয়েক বছর ধরে এ প্রবণতা বাড়তে থাকলেও এবার তা আরও চোখে পড়ার মতো। কৃষকেরা জানাচ্ছেন, ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারে আমের দরপতনের কারণে বাধ্য হয়ে অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।
সরেজমিনে চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অনেক পুরোনো আম গাছ কেটে সেখানে সবজি, সরিষা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ফসল রোপণ করা হচ্ছে। বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমের ন্যায্য দাম না পাওয়াই তাদের এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। বাজারে আগের মতো আর বেপারিরা আসেন না। আবার কোনো কোনো মৌসুমে চাষিরা লোকসান গুনতে বাধ্য হন।
চাষিরা বলছেন, কৃষি উপকরণ, কীটনাশক, সার ও শ্রমিকের মজুরি কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ লাফিয়ে বাড়লেও আমের দাম উল্টো কমছে। ১৪–১৫ বছর আগে যেসব আম প্রতি মণ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন নেমে এসেছে মাত্র ৪০০–৬০০ টাকায়। ফলে একই জমিতে সবজি বা অন্যান্য ফসল করে বেশি লাভ পাওয়া যাচ্ছে।
সরদহ ইউনিয়নের ঝিকরা গ্রামের আমচাষি শাহিন জোয়ার্দার বলেন, “আগের মতো গাছ লাগিয়ে রাখলেই আর আম হয় না। ব্যাপক পরিচর্যা লাগে, খরচও বেশি। কিন্তু বাজারে দাম বাড়ে না। তাই অনেকেই আম গাছ কেটে অন্যান্য লাভজনক ফসল লাগাচ্ছেন।”
মুংলী গ্রামের চাষি আজিম উদ্দিন জানান, তার ১ বিঘা জমির আম বাগান কেটে এবার সবজি চাষ করছেন। এতে অন্তত ২০ হাজার টাকা আয় হবে বলে তিনি আশা করছেন।
ভায়ালক্ষীপুরের পুঠিমারি গ্রামের মাসুদ রানা বলেন, “১০ কাঠা জমিতে আম বাগান ছিল। এবার সরিষা চাষ করছি। বাগান থেকে ৩ হাজার টাকার বেশি আম পাইনি; কিন্তু গাছ কাটার পর সবজি চাষ করে ৩ মাসে ৭ হাজার টাকা আয় করেছি।”
এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান জানান, বর্তমানে উপজেলায় ৪ হাজার ৯০৩ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এর মধ্যে ৫ হেক্টর বাগানের আম গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, “আম বাগান কেটে ফেলছেন যারা, তাদেরকে আমরা উন্নত জাতের আম গাছের পাশাপাশি বিকল্প ফসলেরও পরামর্শ দিচ্ছি।”






















