সুগন্ধা নদীর তীরে গড়ে ওঠা দক্ষিণাঞ্চলের একসময়কার বাণিজ্যিক শক্তিকেন্দ্র
নলছিটিতে সুগন্ধা নদীর তীরে এশিয়ার বৃহত্তম মোহাম্মদীয়া অয়েল অ্যান্ড রাইচ মিলের ঐতিহাসিক যাত্রা
- আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠি জেলার নলছিটিতে সুগন্ধা নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল এক সময়ের এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম শিল্প স্থাপনা—মোহাম্মদীয়া অয়েল অ্যান্ড রাইচ মিল। ব্রিটিশ আমলে পাকিস্তানি ব্যবসায়ী আমিন আনোয়ার নলছিটির কল-বাড়ি এলাকায় কয়েক একর জমি ক্রয় করে এই মিল প্রতিষ্ঠা করেন। স্থাপনার সময় মিলটি এশিয়ার সর্ববৃহৎ মিল হিসেবে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করে।
এই মিলকে কেন্দ্র করে নলছিটি ও ঝালকাঠিতে বাণিজ্যের নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। চাল, ডাল, সুপারি, লবণ, নারিকেল ও তেতুলের বাণিজ্যে অঞ্চলটি হয়ে ওঠে সমৃদ্ধ। ভারতের কলকাতার নামকরা ব্যবসায়ীরা নলছিটিতে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ফলে নলছিটিকে সে সময় ‘দ্বিতীয় কলকাতা’ নামে ডাকত স্থানীয়রা।
ব্রিটিশ শাসনামলে নলছিটিতে সদর দপ্তর এবং ১৮৬৫ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠা ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও সুদৃঢ় করে। ভারতীয় হিন্দু, মগ ও চীনা ব্যবসায়ীরা নিয়মিত এই অঞ্চলে আসা-যাওয়া করতেন। স্টিমার ঘাট নির্মাণের ফলে পরিবহন ও বাণিজ্যিক সুবিধা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
প্রবীণদের মতে, তিন শতাধিক তৈলের ঘানি ও অটো রাইচ মিল চালু থাকায় নলছিটির কয়েক মাইল পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হতো। এমনকি মিলের হুইসেল ৫০ কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যেত—যা শিল্পকারখানাটির বিশালত্বের সাক্ষ্য বহন করে।
তবে স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা, মালিকপক্ষের দ্বন্দ্ব এবং সরকারের পাওনা পরিশোধে অনীহাসহ বিভিন্ন কারণে মিলটি তার পুরোনো গৌরব হারাতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিল্পকারখানাটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে এবং আজ তা অতীতের গৌরবগাথা হয়ে স্মৃতি হিসেবে টিকে আছে।
নলছিটির অর্থনীতি, বাণিজ্য ও সামাজিক জীবনে মোহাম্মদীয়া অয়েল অ্যান্ড রাইচ মিল এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস হিসেবে স্থান করে রয়েছে; যা পরবর্তী প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দেয় এ অঞ্চলের একসময়কার বাণিজ্যিক সমৃদ্ধির গল্প।






















