বিজয়নগর থানায় ঘুষবাণিজ্য, মামলা সিন্ডিকেট ও সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগে তোলপাড়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসপি ও বিজয়নগর ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি অভিযোগ–দুদকসহ ১০ দপ্তরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগপত্র
- আপডেট সময় : ০৯:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ৫৯ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর এলাকায় পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষবাণিজ্য ও সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগে জেলা পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে দুদক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইজিপি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ মোট ১০টি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ অভিযোগ জমা দিয়েছেন দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক মেহেদী হাসান। ২৪ নভেম্বর তিনি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিল করেন। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ পুলিশ, জাতীয় প্রেস ক্লাব, বিএফইউজে, ক্র্যাব-সহ আরও বহু দপ্তরে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়—বিজয়নগর থানার এলাকায় সাম্প্রতিক একটি মারামারি থামাতে গিয়ে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ অ্যাসল্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা নেয়ার পরিবর্তে, ওসি শহীদুল ইসলাম হামলাকারীদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ করেন। অভিযোগকারী আরও জানান—ঘুষ লেনদেনের ভিডিও প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে।
এ বিষয়ে “অগ্রযাত্রা প্রতিদিন”–এর মাল্টিমিডিয়া বিভাগ ৩টি ধারাবাহিক অনুসন্ধানী ভিডিও প্রকাশ করে, যার প্রতিবেদক ছিলেন সাংবাদিক মিজানুর রহমান। ভিডিও প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ হন সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ কর্মকর্তা। এরপর এসপি এহতেশামুল হকের প্রত্যক্ষ নির্দেশে, ওসি শহীদুল তার নিজের সিন্ডিকেটের সদস্যদের মাধ্যমে সাংবাদিক মিজানুরের বিরুদ্ধে একের পর এক ভুয়া ও জামিন অযোগ্য চাঁদাবাজির মামলা রুজু করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিজয়নগর থানায় মামলা গ্রহণ বা না করার ক্ষেত্রে ওসি শহীদুল ইসলাম ৫–৯ জনের দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনা করেন, যার নেতৃত্বে রয়েছেন আব্দুল শাহিদ নামের একজন ব্যক্তি। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদক স্পট, সীমান্ত চোরাচালান, মামলা পরিচালনা, তদন্তে হস্তক্ষেপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনিয়মের বিনিময়ে নিয়মিত ঘুষ সংগ্রহ করা হয়—যার একটি অংশ নিয়মিত জেলা এসপির কাছে পৌঁছায় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার কারণে সাংবাদিক মিজানুর রহমানকে টার্গেট করে ধারাবাহিক হয়রানি ও মিথ্যা মামলার বিচারে সাংবাদিক মহলসহ জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারী মেহেদী হাসান দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সত্য উদঘাটনের পাশাপাশি অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।






















