রাজবাড়ী ও নারায়ণগঞ্জে মানবিক প্রশাসনের উদাহরণ স্থাপনকারী জাহিদুল ইসলাম এখন চট্টগ্রামের অভিভাবক
চট্টগ্রামের নতুন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা দায়িত্ব গ্রহণ করলেন
- আপডেট সময় : ১০:১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ৩২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
সারাদেশে ‘মানবিক ডিসি’ হিসেবে খ্যাত মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা চট্টগ্রামের ৩৪তম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর ২০২৫) দুপুরে তিনি ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর জাহিদুল ইসলাম বলেন, “জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও মানবিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠাই আমার অঙ্গীকার। নাগরিক সেবায় দ্রুততা ও দক্ষতা নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য।”
রাজবাড়ী ও নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে তার মানবিক উদ্যোগ সারাদেশে আলোচিত হয়। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, অসুস্থ, দুস্থ মানুষ থেকে শুরু করে কারাবন্দিদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন নির্ভরতার প্রতীক। হুইলচেয়ার, চিকিৎসা সহায়তা, শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনসহ নানা উদ্যোগে আলোচনায় আসেন তিনি।
তার নেতৃত্বে রাজবাড়ীতে কারাগারের ১,২৪৪ বন্দির জন্য ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন, এতিমখানার শিশুদের জন্য ইফতার ও পাঞ্জাবি উপহার, এবং ২১ জুলাই নিহত ২১ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ৪২ লাখ টাকার অনুদান প্রদানের মতো মানবিক উদ্যোগ দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়।
জাহিদুল ইসলামের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগগুলোর মধ্যে প্রকাশ্য লটারি পদ্ধতিতে সরকারি চাকরি নিয়োগ, নিজ হাতে ময়লা সংগ্রহ করে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, এবং সরকারি হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
১৯৭৯ সালের অক্টোবরে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে জন্ম নেয়া এই প্রশাসক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করে যুক্তরাজ্যে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় এমএসসি করেন। ২০০৬ সালে ২৫তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসনে যোগ দিয়ে বিভিন্ন জেলায় দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাদি উর রহিম জাদিদ, পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, মো. শরীফ উদ্দিনসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রামের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকে জেলার নতুন অভিভাবক হিসেবে স্বাগত জানানো হয়। জনবান্ধব, মানবিক এবং উন্নয়নমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার প্রত্যয়ই হবে তার সামনের পথচলার মূল অঙ্গীকার।






















