জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক থেকে শিবির প্যানেলের প্রার্থী, আলোচনায় নূর নবী
জকসু নির্বাচনে শিবিরের প্যানেলে গুম হওয়া নূর নবী, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে
- আপডেট সময় : ০৯:০৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ২৩ বার পড়া হয়েছে

জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে আলোচনায় এসেছেন জুলাই গুমের শিকার নূর নবী। তিনি এবার ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহিদ রফিক ভবনের নিচতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্যানেল ঘোষণা করা হয়।
নূর নবী ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন। ওই বছরের ১৯ জুলাই আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে ডিবি অফিসে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
এরপর সাজানো মামলায় রিমান্ডে নিয়ে আরও নির্যাতন চালানো হয় তার ওপর। মুক্তির পর ১৭ আগস্ট তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদে (বাগছাস)’ যোগ দেন। তবে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ অসঙ্গতির কারণে গত আগস্টে তিনি সেখান থেকেও পদত্যাগ করেন।
কুমিল্লার সন্তান নূর নবী বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় সিজিপিএ ৪.০০ এর মধ্যে ৪.০০ পেয়ে পুনরায় আলোচনায় আসেন।
শিবিরের প্যানেল বেছে নেওয়ার কারণ জানাতে গিয়ে নূর নবী বলেন,
“আমি কোনো দলের পরিচয়ে নয়, আদর্শ ও যোগ্যতাভিত্তিক টিম হিসেবে এই প্যানেল বেছে নিয়েছি। এখানে শিবির সমর্থক ছাড়াও রয়েছেন জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী, মানবাধিকার কর্মী, পেশাদার ক্রীড়াবিদ এবং নির্দলীয় শিক্ষার্থীরা। এটি একটি বহুমাত্রিক ও উন্মুক্ত দল।”
তিনি আরও বলেন,
“এই প্যানেল আমাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, কাজের মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ দিয়েছে। তাই আমি বিশ্বাস করি—এই দল জবির শিক্ষার্থীদের প্রকৃত স্বার্থেই কাজ করবে।”
এর আগে ৫ নভেম্বর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১২ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। ২৪৯ জন প্রার্থী কেন্দ্রীয় ও হল সংসদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আগামী ২২ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ২৩ ডিসেম্বর ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।






















