জৈব পদ্ধতিতে সবজি চাষে কোটালীপাড়ার কৃষকদের নতুন দিগন্ত
কোটালীপাড়ায় পারিবারিক পুষ্টিবাগানে কৃষকের মুখে হাসি, বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি
- আপডেট সময় : ০৭:২৬:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ৫৮ বার পড়া হয়েছে

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি :
কোটালীপাড়ার গ্রামীণ জনপদে পারিবারিক পুষ্টিবাগানের মাধ্যমে কৃষকের মুখে ফুটেছে সুখের হাসি। বাড়ির অব্যবহৃত আঙিনা ও পতিত জমিতে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি। “পারিবারিক পুষ্টিবাগান” নামের এই উদ্যোগ এখন অনেক কৃষকের পুষ্টি ও আয়ের নির্ভরযোগ্য উৎস হয়ে উঠেছে।
দেড় শতাংশ জমিতে বছরে গড়ে ৫৫০ কেজি শাকসবজি উৎপাদন করে কৃষকেরা পাচ্ছেন প্রায় ১৩ হাজার টাকার নিট লাভ। নিজের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি সবজি বিক্রি করে তারা গড়ে তুলছেন একটি টেকসই কৃষি জীবনধারা।
বান্ধাবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক ইসমাইল হাওলাদার বলেন, “ছয় বছর ধরে পুষ্টিবাগান করছি। নিজেরা খাই, বাড়তি সবজি বিক্রি করি। বছরে ৫-৬ হাজার টাকা বাড়তি আয় হয়।”
কুশলা ইউনিয়নের কৃষক মিলন শেখ বলেন, “এ বাগানে আমরা রাসায়নিক সার ব্যবহার করি না। জৈব সার, গোবর ও ফাঁদ ব্যবহার করে উৎপাদন করি। ফলে সবজি খেতে যেমন ভালো লাগে, তেমনি স্বাস্থ্যের জন্যও নিরাপদ।”
মাঝবাড়ি গ্রামের কৃষক মাসুদ দাড়িয়া বলেন, “আমার বাগানের সবজি সম্পূর্ণ বিষমুক্ত। তাই বাজারে চাহিদা বেশি এবং অন্য সবজির তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হয়।”
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুক্তা মণ্ডল জানান, “পারিবারিক পুষ্টিবাগানের উদ্দেশ্য হলো সারা বছর তাজা, নিরাপদ ও পুষ্টিকর সবজি সরবরাহ নিশ্চিত করা।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায় বলেন, “এই উদ্যোগ শুধু শাকসবজি উৎপাদনের নয়, বরং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার একটি অংশ। এতে কৃষক পরিবার নিজেরাই পুষ্টিকর খাদ্য পায় এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়।”
চলতি অর্থবছরে কোটালীপাড়া উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকায় ৩৭১টি পুষ্টিবাগান স্থাপন করা হয়েছে। কৃষকদের ১৩ প্রকার সবজির বীজ, জৈব সার ও প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয়ভাবে সবজি উৎপাদন বেড়েছে, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।






















