বাতিল লাইসেন্সে নিকাহ রেজিস্ট্রি: প্রশাসনের নোটিশেও থামেননি সাবেক রেজিস্ট্রার
কুড়িগ্রামে বাতিল লাইসেন্সে নিকাহ রেজিস্ট্রি: আইনি জটিলতায় পড়ছে বহু বিবাহ
- আপডেট সময় : ০৭:৩৫:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ২৩ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নে বাতিল লাইসেন্সে নিকাহ রেজিস্ট্রেশনের অভিযোগে তোলপাড় চলছে। স্থানীয়দের দাবি, সাবেক নিকাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা ফয়েজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বাতিল লাইসেন্স ব্যবহার করে অবৈধভাবে বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন করে আসছেন।
জানা গেছে, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০০৬ সালের ১২ অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফয়েজ উদ্দিনের নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স বাতিল করে এবং হোসাইন আহমেদকে নতুন নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর থেকে হোসাইন আহমেদ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও, ফয়েজ উদ্দিন এখনও নিজেকে নিকাহ রেজিস্ট্রার পরিচয়ে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি তার ছেলে আমীর হোসেন মামুনের বিরুদ্ধে ভুয়া বইপত্র ব্যবহার করে অবৈধভাবে নিকাহ নিবন্ধনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এই ঘটনায় গত ১০ নভেম্বর কুড়িগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার মো. রুহুল কুদ্দুসের স্বাক্ষরিত একটি সতর্কতামূলক নোটিশ জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, “আপনার নামীয় নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্সটি বাতিল করা হয়েছে। বাতিলকৃত লাইসেন্সের ভিত্তিতে নিকাহ রেজিস্ট্রি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বেআইনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো কার্যক্রম না করার জন্য আপনাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হলো।”
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক নিকাহ রেজিস্ট্রার ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “এ ঘটনায় আদালতে রিট করা হয়েছিল, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি কাজের অনুমতি পেয়েছি।” তবে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় জানায়, সরকারি রেকর্ডে তার লাইসেন্স বাতিলই রয়েছে এবং নতুন কোনো অনুমোদন তারা পাননি।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এমন বেআইনি নিকাহ রেজিস্ট্রেশন ভবিষ্যতে বিবাহ-সম্পর্কিত আইনি জটিলতা ও সামাজিক সমস্যার জন্ম দিতে পারে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















