চাকরি হারিয়ে খামার গড়লেন শাহিন ঢালি, আজ তাঁর পরিশ্রমেই বদলে গেছে জীবন
হতাশা জয় করে সফল উদ্যোক্তা শাহিন ঢালি: গরু ও মুরগির খামারে আজ এলাকার অনুপ্রেরণা
- আপডেট সময় : ০৯:০৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:
করোনাভাইরাস মহামারির সময় চাকরি হারিয়ে জীবনে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিলেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের আশকার উদ্দিন আহমেদ (শাহিন) ঢালি। কিন্তু হতাশায় ভেঙে না পড়ে তিনি নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে হাঁটেন। শৈশবের ইচ্ছা—গরুর খামার করার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করেন তিনি।
ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন শাহিন। ভালো বেতন ও সুযোগ–সুবিধা থাকা সত্ত্বেও লকডাউনে চাকরি হারানো তাঁর জীবনে বড় ধাক্কা এনে দেয়। সেই কঠিন সময়ে পরিবারের সহায়তায় পাঁচটি গরু নিয়ে শুরু হয় তাঁর নতুন জীবন।
প্রথম বছর লাভ না হলেও ক্ষতি হয়নি। নিজের শ্রমে মাঠে ঘাস ফলানো, গরুর যত্ন নেওয়া—সবকিছু নিজেই করতেন তিনি। এক বছরের মধ্যেই দুধ বিক্রি শুরু করেন এবং গাই গরুর সংখ্যা বাড়িয়ে বর্তমানে ১৮টি পর্যন্ত নিয়ে গেছেন। এখন প্রতিদিন প্রায় ৫০ কেজি দুধ বিক্রি করেন তিনি।
২০২৬ সালের কুরবানির জন্য একটি গরু বিশেষভাবে প্রস্তুত করছেন এবং আরও পাঁচটি গরু কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
গরুর খামারে সফল হওয়ার পর এ বছরের এপ্রিল মাসে লেয়ার মুরগির খামার শুরু করেন শাহিন ঢালি। শুরুতে ১,১০০ বাচ্চা নিলেও অভিজ্ঞতার অভাবে কিছু মারা যায়। বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে ১,০০০-এর বেশি মুরগি, প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ৮০০টি ডিম। পাশাপাশি মাছ চাষের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তিনি।
শাহিন ঢালির খামারে এখন দুইজন কর্মী কাজ করছেন, শিগগিরই আরও একজন নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
শাহিন বলেন, “চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করলেই সফলতা আসে। আমি চাই তরুণরা নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলুক।”
স্থানীয়রা জানান, একসময় যাঁরা তাঁকে নিরুৎসাহিত করতেন, আজ তাঁর সাফল্যে গর্ববোধ করেন। শাহিনের মামা আকতারুজ্জামান বলেন, “শাহিন এখন এলাকার আদর্শ উদ্যোক্তা। তাঁর সফলতা অনেক তরুণকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।”
প্রতিবেশী মুফতি আলাউদ্দিন বলেন, “শাহিনের সাফল্য প্রমাণ করেছে—চাকরি না থাকলেও উদ্যোগ ও পরিশ্রমে সফল হওয়া যায়।”
আজ শাহিন ঢালি শুধু নিজের নয়, পুরো এলাকার তরুণদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর উদ্যোগে স্বপ্ন দেখছে নতুন প্রজন্মের তরুণ উদ্যোক্তারা।






















