অগ্রহায়ণের শুরুতেই নতুন ধানের ঘ্রাণে মুখর ঘিওর—বাঙালির ঐতিহ্যের উৎসব নবান্ন
ঘিওরে আমন মৌসুমে বর্ণাঢ্য নবান্ন উৎসব পালিত
- আপডেট সময় : ০৯:০৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ১০০ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
অগ্রহায়ণ মাসে নতুন ধান ঘরে তোলা উপলক্ষে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জয়নগর কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিখন কেন্দ্রের আয়োজনে এবং বারসিকের সহযোগিতায় ঘিওরের জয়নগর, মান্তা ও বেগমনগর গ্রামের ৫১ জন কৃষক-কৃষাণির অংশগ্রহণে সাতদিনব্যাপী নবান্ন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গভীর পানির বুনা আমন মৌসুমে ধান কাটা, ধান উড়ানো, সিদ্ধ ও শুকানোসহ ঢেঁকিতে চাল তৈরি এবং দেবতাকে কলার পাতায় পায়েস উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব শেষ হয় ১লা অগ্রহায়ণ, রোববার। আত্মীয়স্বজন ও ছোট শিশুদের মধ্যে নতুন অন্ন পরিবেশন শেষে গৃহকর্তারা নতুন ধান দিয়ে প্রথম আহার করেন।
প্রবীণ কৃষাণি কনিকা রানী বিশ্বাস বলেন, “প্রাচীনকাল থেকেই অগ্রহায়ণ মাসে নতুন ধানের উৎসব পালন করা হতো। নতুন চালের পিঠা, পায়েস ও ক্ষীরের আয়োজন হতো ঘরে ঘরে।”
বেগমনগর গ্রামের প্রবীণ কৃষক পরিতোষ সরকার জানান, “নবান্ন মূলত একটি শস্যভিত্তিক গ্রামীণ উৎসব। সারা বছরের প্রধান শস্য সংগ্রহকে কেন্দ্র করেই এই উৎসব উদযাপন করা হয়।”
সৈয়দ আল আজাদ বলেন, “অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম দিনটি বাঙালির প্রাচীনতম উৎসব ‘নবান্ন’ হিসেবে পরিচিত। কৃষকের জীবনে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে এই উৎসব।”
বারসিক কর্মকর্তা সুবীর কুমার সরকার বলেন, “নবান্ন উৎসব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কৃষক সমাজকে একত্রিত করে। গভীর পানির বুনা আমন ধানকাটা ঘিরে জয়নগর, মান্তা, হেলাচিয়া ও কুন্দুরিয়া অঞ্চলে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।”
বারসিকের সহযোগী কর্মসূচি কর্মকর্তা গাজী শাহাদাৎ হোসেন বাদল বলেন, “অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতেই বাংলার ঘরে ঘরে নতুন ধানের পিঠা-পায়েস রান্না করে আত্মীয়দের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে নবান্ন উৎসব উদযাপিত হয়। এ সময় প্রকৃতিতে দেখা দেয় হেমন্তের কুয়াশা, নতুন ধানের ঘ্রাণ আর শীতের স্নিগ্ধ আবহ।”
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের অন্যতম এই নবান্ন উৎসব গ্রামীণ সমাজে আজও জীবন্ত ঐতিহ্য হয়ে আছে।






















