বিয়ে চাপ, দারিদ্র্য আর অনাহার—সব জয় করে স্বপ্নের পথে কুড়িগ্রামের মেধাবী মীম
কুড়িগ্রামে নিজের বিয়ে ঠেকিয়ে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেল মীম: দারিদ্র্য আর সংগ্রামের জয়গাথা
- আপডেট সময় : ০৮:২২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫ ৫০ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
দারিদ্র্য, বিয়ের চাপ আর প্রতিদিনের অনাহারের সঙ্গে লড়াই করে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন কুড়িগ্রামের মাছুমা আক্তার মীম। পারিবারিক আর্থিক সংকট ও সমাজের নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সবার দৃষ্টি কেড়েছেন তিনি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অদম্য মেধাবী এই শিক্ষার্থী।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বাগভান্ডার সোনাতলি এলাকার দিনমজুর মতিয়ার রহমানের মেয়ে মীম। পরিবারে জমিজমা বলতে মাত্র ৮ শতক বাড়িভিটা। দুই বোন ও এক ভাই নিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চলে বাবার দিনমজুরির আয়ে। এমন অবস্থায় মীমের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
এমনকি টেস্ট পরীক্ষা দেওয়ার পর তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এলাকার লোকজন বলেছিলেন, “১৫-১৬ বছর বয়স হয়েছে, মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে।” কিন্তু দৃঢ় মনোভাবের মীম কান্নাকাটি করে মামা ও বাবাকে বোঝান এবং বিয়ে বন্ধ করেন।
মীম বলেন, “অনেক দিন টাকা না থাকায় রোজা রেখে দিন পার করেছি। কিন্তু স্বপ্ন ছাড়িনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বিসিএস দিতে চাই।”
মীমের বাবা মতিয়ার রহমান আবেগঘন কণ্ঠে জানান, “মেয়ে জিপিএ-৫ পাওয়ায় খুব খুশি। প্রয়োজনে রক্ত বিক্রি করে হলেও মেয়েকে পড়াবো।”
মীমের মা আয়েশা খাতুন বলেন, “জুতা দিতে পারিনি, ক্লাসে ঢুকতে দেয়নি। ৩ কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে গেছে। খেতে দিতে পারিনি, তারপরও মেয়েটা এত ভালো রেজাল্ট করেছে।”
মীমের শিক্ষক ভূরুঙ্গামারী মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. সফিয়ার রহমান বলেন, “মীম অত্যন্ত মেধাবী। সরকারি বা বেসরকারিভাবে সাহায্য পেলে তার পড়াশোনা সহজ হবে।”
মীম বর্তমানে রংপুরে কোচিং করছেন। থাকার খরচ, যাতায়াত ও খাবারের টাকা না থাকায় রোজা রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সমাজের বিত্তবান মানুষদের সহায়তা পেলে স্বপ্নপূরণের পথ আরও সহজ হবে।






















