পারিবারিক দ্বন্দ্বে মর্মান্তিক পরিণতি, পলাতক শাহিন মুন্সিকে খুঁজছে পুলিশ
চান্দিনায় সৎ মাকে কুপিয়ে হত্যা, পলাতক ছেলে শাহিন মুন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৬:৪৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ৪৮ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নের সব্দলপুর গ্রামে সৎ মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শাহিন মুন্সি (২৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাত সোয়া ১১টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হালিমা খাতুন (৩৪) মারা যান।
নিহত হালিমা খাতুন সব্দলপুর গ্রামের এমদাদুল হক মুন্সির দ্বিতীয় স্ত্রী। অভিযুক্ত শাহিন মুন্সি এমদাদুল হক মুন্সির চতুর্থ ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে প্রথম স্ত্রী মারা গেলে চার ছেলে ও তিন মেয়ের জনক ৭৫ বছর বয়সী এমদাদুল হক মুন্সি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দুই মাস আগে তিনি দাউদকান্দির জয়নগর এলাকার হালিমা খাতুনকে বিয়ে করে ঘরে তোলেন। ছোট ছেলে শাহিন আট মাস আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে বাড়িতে থাকছিলেন।
এমদাদুল হক মুন্সি বলেন, “রাত ১১টার দিকে আমি শৌচাগারে যাই। ফিরে এসে দেখি স্ত্রী বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাচ্ছেন। ডাকচিৎকারে পরিবারের সবাই আসে। পরে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।”
পুত্রবধূ শিরিনা আক্তার জানান, “আমরা পাশের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে ছুটে এসে দেখি শাহিন ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে, আর সৎ শাশুড়ি রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন।”
বাতাঘাসী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজ বলেন, “এমদাদুলের দ্বিতীয় বিয়েকে পরিবার মেনে নিয়েছিল। কিন্তু কেন শাহিন এমন ভয়াবহ কাজ করল, তা কেউ বুঝতে পারছে না।”
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানান, “ঢাকা থেকে মরদেহ ফেরার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহতের স্বামী এমদাদুল হক মুন্সি অভিযোগ করেছেন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”






















