চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় বন্ধ ট্রমা সেন্টার, নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ
১২ কোটি টাকায় নির্মিত শিবচর ট্রমা সেন্টার চালু হয়নি, চিকিৎসাহীন অবস্থায় ধুঁকছে হাসপাতাল ভবন
- আপডেট সময় : ১১:৪৪:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ৮৯ বার পড়া হয়েছে

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নির্মিত ট্রমা সেন্টারটি আজও অচল অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালে উদ্বোধন করা হলেও এখন পর্যন্ত কেন্দ্রটি চালু হয়নি।
চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় ট্রমা সেন্টারের ভবনটি বর্তমানে মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। রাতের অন্ধকারে সেখানে তৈরি হয় ভূতুড়ে পরিবেশ। ভবনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ফ্যান, বাতি ও কল-নল চুরি হয়ে যাচ্ছে নিয়মিত। চারপাশে আগাছা ও ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে পুরো এলাকা।
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ প্রতিদিন এই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করছেন। কিন্তু দ্রুতগতির কারণে প্রায়ই ঘটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা।
শিবচর হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক বছরে এই এক্সপ্রেসওয়েতে ১৩৫টি দুর্ঘটনায় ১৩১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৭২ জন।
দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে ২০২২ সালে ট্রমা সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়। সেখানে ৩৪টি পদে জনবল থাকার কথা থাকলেও, এখন পর্যন্ত কোনো নিয়োগ হয়নি। ফলে আহতদের ঢাকায় বা ফরিদপুরে পাঠাতে হয়, যার ফলে অনেকে পথেই মৃত্যুবরণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, “সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করেছে, কিন্তু তা বন্ধ পড়ে আছে। এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়।”
এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী শাজাহান মিয়া বলেন, “প্রতিদিন এই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে পারলে অনেক জীবন বাঁচানো যেত। ট্রমা সেন্টারটি চালু করা সময়ের দাবি।”
শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “জনবল না থাকায় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তবে এটি দ্রুত চালু হওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
মাদারীপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. শরীফুল আবেদীন কমল জানান, “জনবল সংকটের কারণে ট্রমা সেন্টারটি চালু করা যায়নি। মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও জনবল পদায়ন হলে এটি সচল করা হবে।”
অভিজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনায় আহতরা সময়মতো চিকিৎসা না পেলে অনেকে রক্তক্ষরণে মারা যান বা স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েন। তাই এলাকাবাসীর দাবি—শিবচর ট্রমা সেন্টারটি দ্রুত চালু করে প্রাণহানি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।






















