ক্ষতিপূরণের তহবিলে কোটি কোটি টাকা থাকলেও জানার অভাবে আবেদন করছে না ভুক্তভোগীরা
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণের সুযোগ হারাচ্ছেন শত শত ভুক্তভোগী, তহবিলে জমা আড়াই শ কোটি টাকার বেশি
- আপডেট সময় : ০৪:৪৯:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ডজনেরও বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে। অথচ তাদের অধিকাংশ পরিবার জানেই না যে, সরকার নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যমতে, বর্তমানে ক্ষতিপূরণ তহবিলে জমা আছে ২৫৫ কোটি টাকারও বেশি, কিন্তু নিহতদের মাত্র ৯.৮৬ শতাংশ এবং আহতদের মধ্যে মাত্র ১.৪২ শতাংশই ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।
মাদারীপুরের নান্নু কাজীর পরিবারও এমন এক উদাহরণ। মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ফেরার সময় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। কিন্তু তাঁর পরিবার ক্ষতিপূরণের বিষয়টি জানত না। ফলে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন না করায় তারা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ হারায়।
সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুসারে, নিহত ব্যক্তির পরিবারকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা এবং গুরুতর আহতদের ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার বিধান আছে। কিন্তু প্রচার-অপ্রচারের অভাবে এবং জটিল প্রক্রিয়ার কারণে অনেক পরিবার ক্ষতিপূরণের আওতায় আসতে পারছে না।
ট্রাস্টি বোর্ডের সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ১,৬৬৮ জন ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়েছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৭৪ কোটি ২২ লাখ টাকা। অথচ একই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ হাজার ২৪৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১৮ হাজার ৫৫৫ জন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শোকগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে আবেদন করা কঠিন। এজন্য বিআরটিএ ও স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। একইসঙ্গে ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়াটি সহজ করা জরুরি।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “মানুষকে সচেতন করতে জেলা প্রশাসকসহ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। টেলিভিশনে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন প্রচারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।”
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, “ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ করা গেলে অনেক পরিবার উপকৃত হবে। তহবিলে টাকা আছে, এখন প্রয়োজন সঠিক ব্যবহারের।”
বিশেষজ্ঞদের অভিমত—ক্ষতিপূরণের বিষয়টি জনসচেতনতা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রসারিত না হলে প্রতিবছর হাজারো পরিবার আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিতই থাকবে।






















