ফাঁস হওয়া ভিডিও ও কল রেকর্ডে চাঞ্চল্য, এলাকাবাসীর দাবি—বিচার ও দলের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা
মাদারীপুরে এনসিপি নেতা মেরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য ও অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও ফাঁস, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
- আপডেট সময় : ০৯:৪০:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা কমিটির সদস্য মেরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য, নারীদের কুপ্রস্তাব, অনৈতিক সম্পর্ক, পুলিশ দিয়ে হয়রানি, আর্থিক কেলেঙ্কারি ও অবৈধ বালু ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। ফাঁস হয়েছে তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও, কল রেকর্ড ও ছবি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভুক্তভোগী এক নারী সেনাবাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেরাজুল ইসলাম তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেইল করে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে আবারও টাকা দাবি ও হুমকি দেন তিনি।
মেরাজুল ইসলাম মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার শংকরদী গ্রামের সিরাজ বেপারীর ছেলে। একসময় বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারী কেলেঙ্কারি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাকে পরপর চারটি স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে তিনি এনসিপির সদস্য হয়ে অবৈধ বালু ব্যবসার সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন।
থ্রি-ডি ডিজিটাল স্কুলের পরিচালক আরিফুজ্জামান টিপু বেগ বলেন, “নারী কেলেঙ্কারি ও স্কুলের টাকা চুরির অপরাধে মেরাজুলকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে আরও তিনটি স্কুল থেকেও তাকে একই কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়।”
এনসিপির অভ্যন্তরে অভিযোগ রয়েছে, মেরাজুল মামলা বাণিজ্য করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করেন। গোপালগঞ্জ সদর থানায় মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন নেতাকর্মীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে রাজৈরের হোসেনপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোখলেস মিনা বলেন, “মেরাজুল ও তার সহযোগীরা মামলা থেকে নাম কাটানোর কথা বলে টাকার দাবি করেছিল। ভয় পেয়ে আমরা অনেকেই চুপ ছিলাম।”
তবে মেরাজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সব অভিযোগ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ফাঁস হওয়া ভিডিও আমার হারিয়ে যাওয়া ফোনের বিষয়।”
মাদারীপুর জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী আজগর শেখ বলেন, “যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল হক জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “কেউ মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হলে আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখব।”






















