ভূমি অধিগ্রহণের মামলায় স্থবির উন্নয়ন প্রকল্প, তিন ইউনিয়নের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ
ভূমি জটিলতায় থমকে ১১ কোটি টাকার চান্দেরচর সেতু, শিবচরে জনভোগান্তির চরমে
- আপডেট সময় : ০১:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ৫৮ বার পড়া হয়েছে

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:
প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চান্দেরচর হাট সংলগ্ন সেতুর কাজ ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। মামলা-মোকদ্দমার কারণে সেতুটি এখন অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় তিনটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।
২০২৩ সালে ১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৬ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৮ মিটার প্রস্থের চান্দেরচর হাট সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের কাজের দায়িত্বে ছিল ‘মেসার্স হা-মীম ইন্টারন্যাশনাল’। শুরুতে দ্রুত অগ্রগতি হলেও, সেতুর বাজার প্রান্তের জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় মালিক ওয়াহেদ আলী মৃধা মামলা দায়ের করেন। এর পর থেকেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি নির্মিত হলে চান্দেরচর হাট, কাদিরপুর, দ্বিতীয়খন্ড ও কুতুবপুর ইউনিয়নের মানুষ সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পেতেন। কিন্তু অসমাপ্ত সেতুর কারণে এখন তাদের বিকল্প, দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর এক পাশের কাজ শেষ হলেও অন্য পাশের কাজ পুরোপুরি বন্ধ। স্থানীয়রা বাঁশের সাঁকো ও অস্থায়ী কাঠামো ব্যবহার করে পারাপার করছেন। ব্যবসায়ী, কৃষক ও শিক্ষার্থীদের মতে, এই সেতুটি এখন তাদের কষ্টের প্রতীক।
স্থানীয় কৃষক শাজাহান মিয়া বলেন, “দুই বছর ধরে বাইপাস সড়ক ব্যবহার করছি। ধান-পাট ও সবজি পরিবহনে প্রচুর কষ্ট হয়। সরকার যদি দ্রুত কাজ শেষ করত, তাহলে এ ভোগান্তি পোহাতে হতো না।”

বাজারের ব্যবসায়ী ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, “সেতুর কাজ অর্ধেক করে থেমে গেছে। সরকারের কাছে অনুরোধ, জমির মালিককে ক্ষতিপূরণ দিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করা হোক।”
জমির মালিক ওয়াহেদ আলী মৃধার ছেলে আলমগীর মৃধা বলেন, “আমাদের জমি নেওয়া হলেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি, তাই মামলা করতে হয়। এখন ভূমি অধিগ্রহণের কাগজ পেয়েছি। ক্ষতিপূরণ পেলে আমরা নিজেরাই চাই সেতুটি দ্রুত শেষ হোক।”

শিবচর উপজেলা প্রকৌশলী কে. এম. রেজাউল করিম বলেন, “সেতুর প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় বাকি কাজ আটকে আছে। আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি, আশা করছি দ্রুত সমস্যা সমাধান হবে।”
স্থানীয়দের আশা, ভূমি জটিলতা দূর হলে সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়ে এলাকাবাসীর যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।






















