সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উচ্ছেদ অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ — অসহায়দের ঘর ভাঙলেও অক্ষত প্রভাবশালীদের বিল্ডিং
প্রভাবশালীদের স্থাপনা অক্ষত, উচ্ছেদ অভিযানে গরিবদের শেষ আশ্রয় গুঁড়িয়ে দিল সওজ
- আপডেট সময় : ১০:১৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা-শ্যামনগর সড়ক প্রশস্তকরণের অংশ হিসেবে সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে প্রভাবশালীদের স্থাপনা অক্ষত থাকলেও অসহায় ও গরিবদের শেষ আশ্রয় স্থল ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
১৫ অক্টোবর থেকে সাতক্ষীরা থেকে ভেটখালী পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্ত করার লক্ষ্যে সওজের এই অভিযান শুরু হয়। এতে শ্যামনগর বাস টার্মিনাল এলাকার ছোট ব্যবসায়ী, চা বিক্রেতা, সেলুন মালিকসহ বহু নিম্নআয়ের মানুষ একরাতেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
সেলুন ব্যবসায়ী মো. আব্দুল জলিলের বৃদ্ধা মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “সব হারিয়ে এখন আমরা নিঃস্ব। কোথায় যাবো, কোথায় থাকবো?”
সরকারি জায়গায় টিনের ঘরে পরিবার নিয়ে বাস করতেন জলিল। উচ্ছেদের সময় জিনিস সরানোর জন্য মাত্র একদিন সময় চাইলেও কোনো দয়া দেখানো হয়নি। মুহূর্তের মধ্যে ভেকু মেশিনে তাদের সেলুন ও বসতঘর মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়।
চা বিক্রেতা মনো বেগম ও জরিনা বেগমের চায়ের টল দোকানও একইভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের পরিবার এখন সম্পূর্ণ গৃহহীন। বংশিপুর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের সময় দেয়ালচাপা পড়ে এক গর্ভবতী গরুর মৃত্যুর ঘটনাও স্থানীয়দের হৃদয় নাড়িয়ে দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, এই অভিযানে প্রভাবশালী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্রিমসন রোজেলা সীফুড লিমিটেড ও জামান ট্রেডার্সের অবৈধ অংশ ভাঙা হয়নি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আশেপাশের স্থাপনাগুলো লাল চিহ্ন দিয়ে ভেঙে ফেলা হলেও ক্রিমসন রোজেলা বিল্ডিংয়ে কোনো লাল দাগও দেওয়া হয়নি। সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা অসদাচরণ করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সওজের সার্ভেয়ার মো. সোহেল রানা বলেন, “যতদূর লাল দাগ দেওয়া হয়েছে, ততদূর ভাঙা হবে। কেউ নিজে না ভাঙলে আমরা ভেঙে দিচ্ছি। বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্যারের কাছ থেকে সময় নেওয়া হয়েছে।”
তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পারভেজকে বারবার ফোন করেও সাংবাদিকরা কোনো প্রতিক্রিয়া পাননি।
সেচ্ছাসেবী সংগঠন শরুব ইয়ুথ টিমের পরিচালক ও গণমাধ্যমকর্মী জান্নাতুন নাইম বলেন, “উন্নয়নের জন্য উচ্ছেদ অভিযান অবশ্যই প্রয়োজন, তবে বৈষম্য মেনে নেওয়া যায় না। ক্যান্সার আক্রান্ত ছকিনা খাতুন, অসুস্থ মরিয়ম বেগমসহ অনেকের একমাত্র আশ্রয় ভেঙে দেওয়া হয়েছে, অথচ প্রভাবশালীদের স্থাপনা রয়ে গেছে।”
স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, যাদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের সরকারি গুচ্ছগ্রামে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।






















