গভীর রাতে আলমারিতে লুকিয়ে ধরা, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় তোলপাড়
সালথায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরের আলমারিতে স্কুল দপ্তরি আটক, ভিডিও ভাইরালে চাঞ্চল্য
- আপডেট সময় : ১০:১৬:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ১৫৯ বার পড়া হয়েছে

সালথা, ফরিদপুর | ৬ মে ২০২৬ :
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় গভীররাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে ঢুকে আলমারির ভেতরে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় এক স্কুল দপ্তরিকে আটক করার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
মঙ্গলবার (৬ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তি মো. আজাদ শেখ (৩৫), তিনি স্থানীয় বড় খারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে ওই রাতে আজাদ শেখ ওই নারীর ঘরে যান। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে ঘরের একটি আলমারির ভেতরে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে বের করে আটক করা হয়।
ঘটনার ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, খালি গায়ে আলমারির ভেতরে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় আজাদকে কয়েকজন যুবক বের করার চেষ্টা করছেন। এ সময় ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করতেও দেখা যায় উপস্থিতদের।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে অর্থের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
তবে প্রবাসীর স্ত্রী দাবি করেন, তিনি পাশের বাড়িতে মৃত্যুর খবর পেয়ে বাইরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে ঘরে আজাদকে দেখতে পান। এ সময় পরিস্থিতি বুঝে আজাদ তাকে চুপ থাকতে বলেন এবং পরে ভয়ে আলমারির ভেতরে লুকিয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইরন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং বিষয়টি ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে বড় খারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরশেদা খান লিমা জানান, আজাদের স্ত্রী তার জন্য ছুটির আবেদন করেছিলেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
সালথা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তামেম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দিন বলেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে সাময়িক বরখাস্তও করা হতে পারে।





















