বাড়িতে ডেকে এনে তরুণীকে হত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগের মামলার অভিযোগ
বরিশালে প্রেমিকার শ্বাসরোধে হত্যা, প্রেমিক পলাতক
- আপডেট সময় : ১১:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ৭৯ বার পড়া হয়েছে

বরিশাল | ২৩ এপ্রিল ২০২৬ :
বরিশাল নগরে বাড়িতে ডেকে এনে এক তরুণীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে নগরের মুনসি গ্যারেজ এলাকার একটি বাসা থেকে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সানজিদা কবির অনিতা (২১) বরিশাল বিএম কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযুক্ত প্রেমিক মইনুল ইসলাম হিমু (৩০) ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার শাহিন হাওলাদারের মেয়ে সানজিদা তাঁর মায়ের সঙ্গে বরিশাল নগরের মুনসি গ্যারেজ এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। একই এলাকায় অপর একটি বাসায় তাঁর মা’কে নিয়ে বসবাস করতেন ঝালকাঠির মিল্টন আকনের ছেলে মইনুল ইসলাম। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
নিহতের মামা মিশু সিকদার জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বড় বোনের বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন সানজিদা। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে সন্দেহ হয়। ফোন ট্র্যাক করে একটি নির্দিষ্ট বাসার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সেখানে গিয়ে সানজিদাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত মইনুল ইসলাম এর আগেও ঝালকাঠিতে এক প্রেমিকাকে হত্যা করেছিলেন এবং সে ঘটনায় একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিষয়টি জানার পরও সানজিদাকে সম্পর্ক থেকে সরে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল।
অভিযুক্তের মা জাহানারা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে সানজিদা তাঁদের বাসায় আসেন। পরে ছেলের কক্ষে তাঁর মরদেহ দেখতে পেয়ে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ সময় মইনুল বাসা থেকে পালিয়ে যায়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, ফরেনসিক দলের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, সানজিদার শরীরে বিভিন্ন স্থানে কালো দাগ রয়েছে এবং তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।






















