দেড় ঘণ্টা ভোটের পর স্থগিত ফলাফল, ব্যালট গায়েব নিয়ে চাঞ্চল্য
বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন: দুপক্ষের হট্টগোলের মধ্যেই উধাও সব ব্যালট
- আপডেট সময় : ০৯:১৩:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ৬৭ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ মেয়াদের কার্যকরী কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও নাটকীয়তার পর ভোটের ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভোট শেষে রহস্যজনকভাবে সব ব্যালট পেপার উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা আইনজীবী মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
(২০ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বাঁশখালী কোর্ট প্রাঙ্গণে নির্বাচন শুরু হয়। কার্যকরী কমিটির ১২টি পদের মধ্যে সভাপতিসহ ১০টি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হওয়ায় শুধুমাত্র সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
ভোটগ্রহণ শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা পর দুপুর ১টার দিকে আইনজীবীদের একটি পক্ষ পূর্বের ফলাফল বাতিল ও পুনঃতফসিল দাবিতে হট্টগোল শুরু করে। এক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনাররা ভোটগ্রহণ স্থগিত করে ভোটকক্ষের দরজা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নেন।
পরবর্তী সময়ে দু’পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধস্তাধস্তি, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় এবং দরজা ভাঙার চেষ্টা চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নির্বাচন কমিশন প্রথমে ভোট স্থগিত, পরে পদত্যাগের ঘোষণা এবং সর্বশেষ ফলাফল স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানায়।
নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২০ মিনিট পর নির্বাচন কমিশনাররা খালি হাতে ভোটকক্ষ থেকে বের হলে উপস্থিত আইনজীবীরা মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে তল্লাশি চালিয়েও কোনো ব্যালট পেপার খুঁজে পাননি। এতে সবার মধ্যে বিস্ময় দেখা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোট শেষে ব্যালটগুলো একটি ফাইলে সংরক্ষণ করে এক সিনিয়র আইনজীবীর হাতে দেওয়া হয় এবং তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট দিলীপ কান্তি সুশীল বলেন, “দেড় ঘণ্টা ভোটগ্রহণ হয়েছে। বিশৃঙ্খলার কারণে ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। তাই ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে।”
অন্যদিকে অ্যাডভোকেট তকছিমুল গণী ইমন অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে এবং একটি সিন্ডিকেট গঠন করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নামে নির্বাচন প্রভাবিত করা হয়েছে। তিনি পুনঃতফসিল ঘোষণা করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানান।
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আদালত ভবনের বাইরে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।






















