সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও ‘ডোনেশন’ নিয়ে খাবার, বৃত্তির টাকাও আত্মসাতের অভিযোগ
সোনারগাঁয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ: প্রশিক্ষণের টাকা আত্মসাৎ, ডোনেশনে খাবার
- আপডেট সময় : ১১:৫২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ৭৫ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ২৭নং লাধুরচর গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত একটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালাকে ঘিরে এ অভিযোগ সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের জন্য সরকারি তহবিল থেকে জনপ্রতি ৫৪০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ভ্যাট বাদে ৫০৩ টাকা করে ব্যয়ের কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে স্থানীয়দের কাছ থেকে ‘ডোনেশন’ নিয়ে। এতে সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, শিক্ষকদের খাবারের জন্য গোপনে চাঁদা তোলা হয়েছে। অথচ সরকারি তহবিল থেকে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সেই অর্থের কোনো হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এছাড়াও আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে—গোবিন্দপুর গ্রামের এক শিক্ষার্থীর নাম বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় অন্তর্ভুক্ত করে সরকারি বৃত্তির অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, যদিও ওই শিক্ষার্থী ঢাকার একটি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।
এছাড়া বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিজের ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সোনারগাঁ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের জন্য সরকারি বরাদ্দ থাকায় ‘ডোনেশন’ নেওয়ার কোনো বিধান নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মুজিবুর রহমান অভিযোগ করে জানান, অতীতেও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সময় তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। তবে চলতি বছরের ৪ এপ্রিল পুনরায় অর্থ দাবি করা হলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
তিনি বলেন, “সরকার যখন খাবারের জন্য টাকা দেয়, তখন সেই টাকা কোথায় যাচ্ছে—এটা এখন বড় প্রশ্ন।”
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।






















