বিশেষজ্ঞ পরিষদের ভোটেই নির্ধারিত হবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে? খামেনির মৃত্যুর পর আলোচনায় ৩ শীর্ষ আলেমের নাম
- আপডেট সময় : ১২:৪৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৬৪ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) নিহত হওয়ার পর দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হচ্ছেন— তা নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ পরিষদ (Assembly of Experts) নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে থাকে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে কয়েকজন প্রভাবশালী আলেম ও ব্যক্তিত্বের নাম সামনে এসেছে।
মোজতাবা খামেনি
মোজতাবা খামেনি (৫৬) বর্তমান আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। তিনি আয়াতুল্লাহ খামেনির দ্বিতীয় পুত্র। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, বিশেষ করে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) এবং আধাসামরিক বাসিজ বাহিনীর ওপর তার প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
তবে ইরানের শিয়া শাসনব্যবস্থায় বংশানুক্রমিক নেতৃত্বের নজির নেই। এছাড়া তিনি উচ্চ পর্যায়ের মারজা-এ-তাকলিদ মর্যাদার আলেম নন এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় তার আনুষ্ঠানিক কোনো পদও নেই— যা তার পথে বড় বাধা হতে পারে।
আলীরেজা আরাফি
আলীরেজা আরাফি (৬৭) খামেনির আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। তিনি বিশেষজ্ঞ পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান এবং প্রভাবশালী Guardian Council-এর সদস্য। গার্ডিয়ান কাউন্সিল ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীদের অনুমোদন এবং আইন যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করে।
আরাফি ইরানের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থারও প্রধান। তবে রাজনৈতিকভাবে তিনি ততটা শক্তিশালী নন এবং সামরিক বা নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে তার সরাসরি ঘনিষ্ঠতা কম।
মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি
মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি (৬০) একজন কট্টরপন্থি ইসলামি আলেম হিসেবে পরিচিত। তিনি ইরানের আলেম পরিষদের সদস্য এবং রক্ষণশীল ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন। পশ্চিমা বিশ্ববিরোধী অবস্থানের জন্য তিনি পরিচিত। বর্তমানে তিনি কোম শহরের একটি ধর্মীয় বিজ্ঞান একাডেমির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তার মতাদর্শ ইরানের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও কঠোর অবস্থানের দিকে নিতে পারে।
নির্বাচন প্রক্রিয়া কীভাবে?
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করেন। এই পরিষদে প্রায় ৮৮ জন আলেম রয়েছেন, যারা সরাসরি জনভোটে নির্বাচিত হন। নতুন নেতা নির্বাচনে ধর্মীয় জ্ঞান, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
খামেনির দীর্ঘ তিন দশকের নেতৃত্বের পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।






















