১৩ শতাংশ জমির পাঁচতলা ভবন নিয়ে মালিকানা বিরোধ, এলাকায় চাঞ্চল্য
লালমনিরহাট নর্থ বেঙ্গল গেস্ট হাউজ দখল: আদালতের নির্দেশে মামলা, টুলুকে গ্রেপ্তারে অভিযান
- আপডেট সময় : ১০:৩৯:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে

মোঃ একরামুল ইসলাম আশিক |
রংপুর ব্যুরোঃ
লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান নর্থ বেঙ্গল গেস্ট হাউজ জোরপূর্বক দখলের অভিযোগে আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু (৫৫)-এর বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ড হয়েছে। বর্তমানে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু লালমনিরহাট পৌরসভার খোচাবাড়ী এলাকার মৃত আব্বাস উদ্দিনের ছেলে। মামলার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ জানুয়ারি রাতে টুলু দলবল নিয়ে বন্ধ থাকা নর্থ বেঙ্গল গেস্ট হাউজে গিয়ে জোরপূর্বক তালা লাগান।
পরবর্তীতে ১ ফেব্রুয়ারি রাতে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে আগের তালা ভেঙে প্রতিষ্ঠানটি দখল করেন। এ সময় ভবনের ভেতরে থাকা এসি, টেলিভিশন, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর গেস্ট হাউজের ম্যানেজার মুকুট চন্দ্র মোহন্ত আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত উপস্থাপিত দলিলপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগটি আমলে নিয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলা হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে ১৪ ফেব্রুয়ারি মামলাটি থানায় রেকর্ড করা হয়। মামলায় আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলুসহ ৮-১০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
জানা গেছে, লালমনিরহাট শহরের মোগলহাট রেলগেট এলাকায় প্রায় ১৩ শতাংশ জমির ওপর পাঁচতলা ভবনটির মালিক ছিলেন প্রয়াত এবিএম শরীফ উদ্দিন। প্রায় এক বছর আগে তার মৃত্যুর পর মালিকানা তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের কাছে হস্তান্তরিত হয়। পরিবার সূত্রে দাবি, ভাই হিসেবে টুলু ১০ শতাংশ অংশের মালিকানা পান। তবে নিজের অংশের বাইরে পুরো প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা করেন তিনি।
ম্যানেজার মুকুট চন্দ্র মোহন্ত বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি দেখভালের জন্য মূল মালিক আমাকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন। আদালতে দায়ের করা মামলায় সুবিধা করতে না পেরে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে জোরপূর্বক দখল নিয়েছেন টুলু।”
তিনি আরও দাবি করেন, মালিকপক্ষ আইনগতভাবে প্রাপ্য অংশ দিতে সমঝোতার প্রস্তাব দিলেও অভিযুক্ত পুরো প্রতিষ্ঠানের মালিকানা দাবি করে আসছিলেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লালমনিরহাট সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল আলম বলেন, “অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।






















