ভুয়া নিয়োগ দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ; দুদকের মামলায় আদালতের কড়া পদক্ষেপ
বরিশালে ৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, ১ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১১:৫২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৭৫ বার পড়া হয়েছে

মাহবুব হাসান | স্টাফ রিপোর্টার বরিশালঃ
বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় নয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে নিয়োগ দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এ আদেশ দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ ফারুক হোসেন এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বর্তমান কেন্দ্রীয় দপ্তরের উপ-পরিচালক ও বরিশালের সাবেক সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান।
তিনি ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ওই নয়টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত শিক্ষকরা হলেন— পুতুল রানী মন্ডল, কল্যানী দেবনাথ, গোলাপী রানী, সাবনিন জাহান, সুরাইয়া সুলতানা, সুবর্ণা আক্তার, কাওসার হোসেন, মো. মনিরুজ্জামান, ফাতেমাতুজ হোজরা, রোকসানা খানম, শহিদুল ইসলাম, রেশমা আক্তার, রহিমা খাতুন, আকতার হোসেন খোকন, নাছরিন, মনির হোসেন, রেহেনা পারভীন, আহসান হাবীব, সামসুন্নাহার, আক্তারুজ্জামান মিলন ও মনিরুজ্জামান।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার নয়টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিভাবে জাতীয়করণ করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষকরা ভুয়া রেকর্ডপত্রকে বৈধ দেখিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন এবং এর মাধ্যমে সরকারি তহবিল থেকে মোট ১ কোটি ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৩১৮ টাকা আত্মসাৎ করেন।
দুদক কর্মকর্তা রাজ কুমার সাহা গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে ২১ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রশাসনে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ প্রক্রিয়ায় জড়িত কর্মকর্তাদের তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের দুর্নীতির ঝুঁকি থেকে যাবে।
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে কোনো সময় অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করতে পারে। মামলার পরবর্তী শুনানি ও আইনানুগ কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে বলে জানা গেছে।






















