যশোরের মণিরামপুরে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় নীরব প্রশাসন, বিচারের অপেক্ষায় অসহায় পরিবার
মাদ্রাসা শিক্ষকের নির্যাতনে নিথর শিশু রিফাত, অর্থ দিয়ে ঘটনা ধামাচাপার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:১০:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

বয়সে একটি শিশু পড়াশোনা আর খেলাধুলায় মেতে ওঠার কথা, ঠিক সেই বয়সেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে মাদ্রাসাছাত্র রিফাত হোসেন (৯)। যশোরের মণিরামপুর পৌরশহরের দারুল উলুম ইলাহী বখ্শ মাদ্রাসার এক শিক্ষকের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে আজ বাকরুদ্ধ, নিথর এক শিশু রিফাত।
চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নিয়মিত পাঠদানের সময় একই শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর দুষ্টুমির ঘটনায় শ্রেণি শিক্ষক মো. দ্বীন ইসলাম (যশোরী হুজুর) হঠাৎ ক্ষিপ্র হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মানবিকতা বিসর্জন দিয়ে রিফাতকে এক হাতে গলা চেপে ধরে মাথার ওপর তুলে মেঝেতে আছড়ে ফেলেন। এতে গুরুতরভাবে আহত হয়ে মুহূর্তেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে শিশুটি।
পরবর্তীতে ঢাকার নিউরো সাইন্স হসপিটালের চিকিৎসকদের বরাতে জানা যায়, রিফাতকে উঁচু জায়গা থেকে ঘাড় ও মাথায় প্রবল চাপ প্রয়োগে আঘাত করা হয়, যার ফলে ঘাড়ের ডান পাশের শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (Brain Stroke) হয়েছে।
আহত অবস্থায় প্রথমে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসার পর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দিলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দরিদ্র পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে সামান্য অর্থ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে বাড়িতেই নামমাত্র চিকিৎসা চলছে রিফাতের। শিশুটি কথা বলতে পারে না, ঘাড় সোজা রাখতে পারে না, প্রতিদিন মাথা ঘোরা ও বমিতে ভুগছে। রিফাতের মা নুরজাহান (নূরী) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “একটা শিশুকে এভাবে কি মানুষ মারতে পারে? আমার ছেলের এখনও প্রতিদিন বমি হচ্ছে।”
অর্থাভাবে পরিবারটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দিয়ে চিকিৎসা সহায়তা চাইতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ৫০ টাকা, ১০০ টাকা করে চাঁদা তুলে শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে নিচ্ছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. দ্বীন ইসলাম নির্যাতনের বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করলেও দায় এড়িয়ে বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষ দেখছে। অন্যদিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ঘটনার দায় অস্বীকার করে এটিকে দুর্ঘটনা বলে দাবি করেছে।
স্থানীয় অভিভাবক মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, “ইসলামি শিক্ষা দিতে সন্তানকে মাদ্রাসায় পাঠিয়ে যদি নিথর দেহ নিয়ে ফিরতে হয়, তবে সেই শিক্ষার মূল্য কোথায়?”
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুত উন্নত চিকিৎসা না পেলে যে কোনো সময় শিশুটির প্রাণ প্রদীপ নিভে যেতে পারে।






















