ভিক্ষুক মুক্ত আমতলী গড়তে উপজেলা প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগ
আমতলীতে গরু পেয়ে কাঁদলেন দুই পা হারানো সিরাজ, বললেন—‘মুই এহন এট্টু বাঁচতে পারমু’
- আপডেট সময় : ০৬:৫২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি :
ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় গরু পেয়ে আবেগে কেঁদে উঠলেন দুই পা হারানো প্রতিবন্ধী সিরাজ (৬২)। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মুই এহন এট্টু বাঁচতে পারমু। এতদিন ভিক্ষা কইর্যা খাইছি, এহন আর ভিক্ষা করমু না।’ সিরাজের মতো একই অনুভূতি প্রকাশ করেন গুলিশাখালী গ্রামের স্বামী পরিত্যক্ত ভিক্ষুক মীম আক্তার (৩২)।
বুধবার (বিকেল সাড়ে ৩টা) আমতলী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিক্ষুকদের হাতে গরু ও দোকানের চাবি তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী। এ সময় আবেগে অনেকেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন।
আমতলী উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘ভিক্ষুক মুক্ত আমতলী উপজেলা’ গড়ার লক্ষ্যে দুর্ঘটনায় দুই পা হারানো আমতলী পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজ, গুলিশাখালী গ্রামের স্বামী পরিত্যক্ত অসুস্থ মীম আক্তার, চাওড়া গ্রামের আমিনুল ইসলাম ও গোছখালী গ্রামের নাজমা বেগম—এই চারজনকে ৩০ হাজার টাকা মূল্যের চারটি গরু প্রদান করা হয়। এছাড়া পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের আরিফা বেগম ও কেওয়াবুনিয়া গ্রামের ফজলুল করিমকে ২৫ হাজার টাকা করে দুটি মুদি ও মনোহরি দোকান দিয়ে পুনর্বাসন করা হয়।
২০২০ সালে এক দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়ে হুইলচেয়ারে বসে ভিক্ষা করতেন সিরাজ। একইভাবে দুর্ঘটনায় এক পা হারানো আমিনুল ইসলাম ও অসুস্থ নাজমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। দোকান পেয়ে ফজলুল করিম বলেন, ‘বাবা বয়স হইছে, এহন ভিক্ষা হরতে পারি না। দোকান পাইয়া বাঁচার এট্টু ভরসা পাইছি।’
আমতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মানজুরুল হক বলেন, সরেজমিন যাচাই-বাছাই শেষে ছয়জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসনের আওতায় আনা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ভিক্ষুক মুক্ত আমতলী গড়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে আরও ভিক্ষুককে পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন তিনি।






















