১৫ কোটি টাকার প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, গাইডওয়াল তুলে নেওয়ার অভিযোগ
কুড়িগ্রাম এলজিইডিতে দুর্নীতির অভিযোগ: ১৫ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, মেয়াদ শেষেও কাজ অসম্পূর্ণ
- আপডেট সময় : ০৮:০১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মশিউর রহমান | কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যেন দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে ১৫ কোটি টাকার একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে।
সদর উপজেলার হরিকেশ মোড় থেকে আরএইচভি কাঁঠালবাড়ি জিসি হয়ে হলোখানা ইউসিপি সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও কাজের চরম ধীরগতির অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ৯ দশমিক ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৪৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৬৯ টাকা। প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ৩০ জুন। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হলেও কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ৬০ শতাংশ।
এর বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৫৫ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরএবি-আরসি-বিসি-এইচটি জেভি-এর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে।পুরাতন গাইডওয়াল তুলে নিয়ে নতুন গাইডওয়াল নির্মাণ না করা, সঠিকভাবে মাটি ও বালু ভরাট না করা, সড়কের প্রশস্ততা বৃদ্ধি না করা এবং ডাব্লিউএমএম সড়কে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, তুলে নেওয়া গাইডওয়ালের ইট ভেঙে খোয়া তৈরি করে তা সড়কে ব্যবহার করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হরিকেশ মোড়, বাউদিয়ার ছড়া ও খলিফার মোড় এলাকায় সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের ফলে প্রতিনিয়ত ধুলাবালি উড়ছে, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এতে আশপাশের কৃষিজমিতে শাক-সবজি চাষ করাও দুরূহ হয়ে পড়েছে।
সুভারকুটি এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম জানান, তাদের এলাকার প্রায় ১০ থেকে ১৫ ইঞ্চি পুরু গাইডওয়াল ঠিকাদারের লোকজন তুলে নিয়ে গেছে। নতুন গাইডওয়াল নির্মাণের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তা করা হয়নি।
একই অভিযোগ করেন চাঁন্দের পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, গাইডওয়াল তুলে নেওয়ার ফলে বৃষ্টিতে সড়ক ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী হামিদ ট্রেডার্সের মালিক হামিদ দাবি করেন, কাজ সঠিকভাবেই করা হচ্ছে এবং কোনো গাফিলতি নেই।
তবে সংবাদ প্রকাশ হলে তদন্ত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।অন্যদিকে,কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমান জানান, কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতেই বিল দেওয়া হয়েছে। এলজিইডির কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউনুছ হোসেন বিশ্বাস বলেন, যেখানে গাইডওয়াল অন্তর্ভুক্ত আছে সেখানে ঠিকাদারকে তা নির্মাণ করতেই হবে। মানহীন সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি জানান।






















