উপযোগী মাটি ও আবহাওয়ায় আমতলীতে তরমুজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে
আমতলীতে তরমুজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা,সম্ভাবনায় উজ্জ্বল অর্থনীতি
- আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

মাইনুল ইসলাম রাজু | আমতলী,বরগুনা প্রতিনিধি:
বরগুনার আমতলী উপজেলায় তরমুজ চাষকে ঘিরে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন শত শত কৃষক। চোখে পড়ছে খড়কুটো ঘেরা অস্থায়ী টংঘর, যেখানে পরিবার-পরিজন ছেড়ে কৃষকরা গড়ে তুলেছেন অস্থায়ী সংসার। কাকডাকা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত তরমুজের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের।
জানা গেছে, আমতলীর আবাদি জমি তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় শুষ্ক মৌসুম এলেই কৃষকদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয় এই রসালো ফল উৎপাদনে। দক্ষ ও অভিজ্ঞ কৃষকরা জমি লিজ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ করে আসছেন, যা এ এলাকার কৃষিতে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
গত কয়েক বছরে আমতলীতে তরমুজের বাম্পার ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল চাহিদা থাকায় এখানকার উৎপাদিত তরমুজ স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে প্রাথমিকভাবে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে তা ৫ হাজার হেক্টর ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা ব্যাপক বিনিয়োগ করছেন।
হলদিয়া এলাকার তরমুজ চাষি মো. আলম জানান, অনেক কৃষক উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভের আশা করছেন তারা।
তরমুজ খেতের শ্রমিক সবুজ খান বলেন, জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তাদের ব্যস্ত থাকতে হয়। মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেতনের পাশাপাশি থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা থাকায় অনেক শ্রমিক এ কাজে যুক্ত হচ্ছেন।
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাসেল জানান, আমতলীতে প্রতি বছর কোটিকোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন হয়ে থাকে। এখানকার মাটি, আবহাওয়া এবং নদ-নদীর মিঠা পানির উৎস তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।






















