চট্টগ্রাম ০৯:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
রাণীশংকৈলে তীর্ণই নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু রংপুরে লাইসেন্স ছাড়া বেকারি পণ্য উৎপাদন, আল মদিনা লাইভ বেকারিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা কচুয়ার ৯নং কড়ইয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় সাংবাদিক আতাউল করিম হাতীবান্ধায় নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধ সার মজুত: দুই ব্যবসায়ীকে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা নান্দাইলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি নেত্রকোণায় জমি বিরোধে হামলা-হুমকি, নষ্ট করা হলো আমনের চারা শিবচরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি, উঠল ঐক্যের ডাক বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কটিয়াদীতে দুই দফায় র‌্যালি-সমাবেশ

নথিতে সরকারি মালিকানা, মাঠে প্রভাবশালীদের দাপট—উচ্ছেদে প্রশাসনিক নীরবতা

৫ কোটি টাকার সরকারি বনভূমি লুটের মহাযজ্ঞ, চকরিয়ায় প্রভাবশালীদের দখলে রাষ্ট্রের জমি

মোঃ আবদুল্লাহ (আল-মামুন)
  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ৫৪ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ আবদুল্লাহ | কক্সবাজার প্রতিনিধি :

রাষ্ট্রের সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর, তাদের চোখের সামনেই কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি বনভূমি ধাপে ধাপে দখল হয়ে যাচ্ছে।

হারবাং মৌজার ইছাছড়ি গ্রামে সংঘবদ্ধ একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারি বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর স্থাপন ও দখল পাকাপোক্ত করার মাধ্যমে কার্যত রাষ্ট্রীয় জমি ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে রূপান্তরের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ভূমি রেকর্ড অনুযায়ী, হারবাং মৌজার ইছাছড়ি গ্রামের সিট নং–১২, বি.এস দাগ নং–১৬৭৩৪ সম্পূর্ণভাবে ২নং খতিয়ানভুক্ত সরকারি বনভূমি। জমির পরিমাণ প্রায় ৫ কানি বা ৬ বিঘার বেশি। কাগজপত্রে এটি স্পষ্টভাবে সরকারি হলেও মাঠপর্যায়ে দখলদারদের দাপট প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে বনজ গাছ কেটে ও মাটি কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ইটভাটা পরিচালনার মাধ্যমে পরিবেশ ধ্বংস করা হয়। সর্বশেষ পর্যায়ে অস্থায়ী টিনের বেড়া পেরিয়ে পাকা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে দখল স্থায়ী করার কাজ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, পাশের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির সঙ্গে বনভূমি একীভূত দেখিয়ে ভবিষ্যতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরির ছক কষা হয়েছে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। বাধা দিলে ভয়ভীতি, হুমকি ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকারি সম্পদ রক্ষায় সামাজিক প্রতিরোধ কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

ভূমি ও বন আইন অনুযায়ী, ২নং খতিয়ানভুক্ত বনভূমিতে ব্যক্তি মালিকানার কোনো সুযোগ নেই। অবৈধ দখল ও স্থাপনা চিহ্নিত হলে তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ এবং জমি উদ্ধার আইনগত বাধ্যবাধকতা। তবুও সব তথ্য ও প্রমাণ থাকার পরও উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত আবু ছালেক দাবি করেন, পুরো জায়গা বনভূমি নয়। তবে তিনি তার দাবির পক্ষে কোনো বৈধ দলিল বা রেকর্ড দেখাতে পারেননি।
চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব বলেন, “তদন্তে জায়গাটি ২নং খতিয়ানভুক্ত সরকারি বনভূমি বলে জানা গেছে। বনবিভাগ সহযোগিতা চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হারবাং বনবিট কর্মকর্তা আরিফ হোছাইন জানান, প্রাথমিক পরিমাপ শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যদিও নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে, তবে দখলদাররা এখনো বহাল। জমি উদ্ধার ও উচ্ছেদ কার্যক্রম কবে শুরু হবে তা অনিশ্চিত। স্থানীয়দের আশঙ্কা, অতীতের মতো তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ করে দখল বৈধ করার সুযোগ তৈরি করা হতে পারে।

এদিকে পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নথিতে সরকারি মালিকানা, মাঠে প্রভাবশালীদের দাপট—উচ্ছেদে প্রশাসনিক নীরবতা

৫ কোটি টাকার সরকারি বনভূমি লুটের মহাযজ্ঞ, চকরিয়ায় প্রভাবশালীদের দখলে রাষ্ট্রের জমি

আপডেট সময় : ০৯:২৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

মোঃ আবদুল্লাহ | কক্সবাজার প্রতিনিধি :

রাষ্ট্রের সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর, তাদের চোখের সামনেই কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি বনভূমি ধাপে ধাপে দখল হয়ে যাচ্ছে।

হারবাং মৌজার ইছাছড়ি গ্রামে সংঘবদ্ধ একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারি বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর স্থাপন ও দখল পাকাপোক্ত করার মাধ্যমে কার্যত রাষ্ট্রীয় জমি ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে রূপান্তরের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ভূমি রেকর্ড অনুযায়ী, হারবাং মৌজার ইছাছড়ি গ্রামের সিট নং–১২, বি.এস দাগ নং–১৬৭৩৪ সম্পূর্ণভাবে ২নং খতিয়ানভুক্ত সরকারি বনভূমি। জমির পরিমাণ প্রায় ৫ কানি বা ৬ বিঘার বেশি। কাগজপত্রে এটি স্পষ্টভাবে সরকারি হলেও মাঠপর্যায়ে দখলদারদের দাপট প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে বনজ গাছ কেটে ও মাটি কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ইটভাটা পরিচালনার মাধ্যমে পরিবেশ ধ্বংস করা হয়। সর্বশেষ পর্যায়ে অস্থায়ী টিনের বেড়া পেরিয়ে পাকা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে দখল স্থায়ী করার কাজ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, পাশের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির সঙ্গে বনভূমি একীভূত দেখিয়ে ভবিষ্যতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরির ছক কষা হয়েছে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। বাধা দিলে ভয়ভীতি, হুমকি ও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকারি সম্পদ রক্ষায় সামাজিক প্রতিরোধ কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

ভূমি ও বন আইন অনুযায়ী, ২নং খতিয়ানভুক্ত বনভূমিতে ব্যক্তি মালিকানার কোনো সুযোগ নেই। অবৈধ দখল ও স্থাপনা চিহ্নিত হলে তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ এবং জমি উদ্ধার আইনগত বাধ্যবাধকতা। তবুও সব তথ্য ও প্রমাণ থাকার পরও উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত আবু ছালেক দাবি করেন, পুরো জায়গা বনভূমি নয়। তবে তিনি তার দাবির পক্ষে কোনো বৈধ দলিল বা রেকর্ড দেখাতে পারেননি।
চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব বলেন, “তদন্তে জায়গাটি ২নং খতিয়ানভুক্ত সরকারি বনভূমি বলে জানা গেছে। বনবিভাগ সহযোগিতা চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হারবাং বনবিট কর্মকর্তা আরিফ হোছাইন জানান, প্রাথমিক পরিমাপ শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যদিও নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে, তবে দখলদাররা এখনো বহাল। জমি উদ্ধার ও উচ্ছেদ কার্যক্রম কবে শুরু হবে তা অনিশ্চিত। স্থানীয়দের আশঙ্কা, অতীতের মতো তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ করে দখল বৈধ করার সুযোগ তৈরি করা হতে পারে।

এদিকে পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।