লোকালয়ে চলে আসা প্রায় ১৮ ফুট লম্বা অজগরকে জীবিত উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর; বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতার আহ্বান।
শ্রীমঙ্গলে লোকালয় থেকে ১৮ ফুট লম্বা বিশাল অজগর উদ্ধার, বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর
- আপডেট সময় : ০৭:০৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লোকালয়ে চলে আসা প্রায় ১৮ ফুট লম্বা একটি বিশালাকৃতির অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বন্ধন কমিউনিটি সেন্টারের পাশ থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াশিম মিয়া রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বিশাল আকৃতির অজগরটি দেখতে পান। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েকজন সাপটিকে হত্যা করার চেষ্টা করলে সচেতন এলাকাবাসী বাধা দেন এবং বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও বাবুল রবিদাস ঘটনাস্থলে পৌঁছে অজগরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে সাপটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধারকারীরা জানান, অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ কেজি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি ভারতীয় অজগর (Indian Rock Python), যা বাংলাদেশের সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর অন্যতম। বন বিভাগ পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে উপযুক্ত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করবে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, “অজগর সম্পূর্ণ নির্বিষ ও শান্ত স্বভাবের প্রাণী।
উস্কানি না দিলে বা ভয় না পেলে তারা সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না। দিনের বেলায় ঝোপঝাড়, গাছের কোটর কিংবা গর্তে আশ্রয় নেয় এবং রাতে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়।”
তিনি আরও বলেন, বনাঞ্চল ধ্বংস, তীব্র তাপদাহ, প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং খাদ্যের সংকটের কারণে অনেক সময় অজগর লোকালয়ে চলে আসে। এসব সাপ সাধারণত হাঁস, মুরগি বা ছোট প্রাণী শিকার করলেও মানুষের জন্য হুমকি নয়। মানুষ দেখলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার্থে কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকে বা হিসহিস শব্দ করে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, অজগর পরিবেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ইঁদুরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এ ধরনের বন্যপ্রাণী দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে কিংবা হত্যা না করে দ্রুত বন বিভাগ অথবা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।




















