ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ৮৬% কমার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতিতে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ
দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে টিকতে পারবে কে? ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার বিশ্লেষণ
- আপডেট সময় : ০৫:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের চলমান সংঘাতে উভয় পক্ষের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের শুরুতে যে মাত্রায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল, এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনো কার্যত ‘অফুরান’ অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে। তবে একই সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।
তেল আবিবভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ (আইএনএসএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মিলে দুই হাজারের বেশি হামলা চালিয়েছে। প্রতিটি হামলায় একাধিক বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান এখন পর্যন্ত ৫৭১টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ১ হাজার ৩৯১টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যদিও এর অনেকগুলোই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই প্রতিরোধ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলেও এখন সেই সংখ্যা কয়েক ডজনে নেমে এসেছে। মার্কিন সামরিক কমান্ডারদের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের হার প্রথম দিনের তুলনায় প্রায় ৮৬ শতাংশ কমে গেছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের হাতে প্রায় দুই হাজারের বেশি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল বলে ধারণা করা হয়। এছাড়া তারা বিপুল সংখ্যক ‘শাহেদ’ ধরনের আত্মঘাতী ড্রোনও তৈরি করেছে, যা রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করছে।
তবে মার্কিন সামরিক সূত্র বলছে, ইরানের ড্রোন হামলার সংখ্যাও প্রথম দিনের তুলনায় প্রায় ৭৩ শতাংশ কমে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান হয়তো ভবিষ্যতের জন্য অস্ত্র মজুত রাখতে হামলার মাত্রা কমিয়েছে অথবা তাদের উৎপাদন সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশে ব্যাপক আধিপত্য বিস্তার করেছে। বহু বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য কৌশল পরিবর্তন করেছে। প্রথম দিকে দূরপাল্লার ব্যয়বহুল টমাহক ক্রুজ মিসাইল ব্যবহারের পর এখন তারা তুলনামূলক কম খরচের জেডিএএম বোমা ব্যবহার করছে, যা সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা যায়।
ওয়াশিংটনভিত্তিক সামরিক বিশ্লেষক মার্ক ক্যানসিয়ানের মতে, ব্যয়বহুল অস্ত্রের বদলে তুলনামূলক সস্তা কিন্তু কার্যকর অস্ত্র ব্যবহার করলে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র অস্ত্রের মজুত নয়, বরং যুদ্ধের কৌশল, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনও এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।






















