আদালতে মামলা ও থানায় অভিযোগ করেও মিলছে না নিরাপত্তা, আতঙ্কে সংখ্যালঘু পরিবার
পাঁচবিবিতে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা: সংখ্যালঘু পরিবারকে লাগাতার হুমকি
- আপডেট সময় : ০৪:৫০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১০৭ বার পড়া হয়েছে

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে জোরপূর্বক জমি দখলের উদ্দেশ্যে একটি সংখ্যালঘু পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আদালতে মামলা ও থানায় অভিযোগ দায়ের করেও প্রতিকার না পাওয়ায় পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের তেলকুড়ি গ্রামে। ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, তেলকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা হরেন্দ্রনাথ সরকারের প্রথম স্ত্রী মৃত্যুবরণ করলে দুটি পুত্র সন্তান রেখে যান। পরবর্তীতে তিনি চিন্তা রাণী সুচনা নামে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভে নবনিতা নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
২০১২ সালের ১৮ জানুয়ারি হরেন্দ্রনাথ সরকার তার নাবালিকা কন্যা নবনিতার নামে ছাতিনালী মৌজার বিভিন্ন দাগ ও খতিয়ানে মোট ১ একর ৩৭ শতক জমি হেবা দলিলমূলে দান করেন (দলিল নং–৪৭৯)। একই বছরের ২২ জুন হরেন্দ্রনাথ সরকার মারা যান এবং ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর নাবালিকা নবনিতারও মৃত্যু হয়।
এরপর হরেন্দ্রনাথ সরকারের প্রথম স্ত্রীর দুই পুত্র উজ্জ্বল সরকার ও স্বপন সরকার উক্ত জমি চাষাবাদ ও ভোগদখল করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, হরেন্দ্রনাথ সরকারের দ্বিতীয় স্ত্রী সুচনা রানী কৌশলে নবনিতার নামীয় সম্পত্তি নিজ নামে খারিজ করে ২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর একই ইউনিয়নের পিয়ারা গ্রামের মৃত আমছের আলীর পুত্র আব্দুল মতিনের কাছে গোপনে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে সুচনা রানী অন্যত্র বিয়ে করে সংসার শুরু করেন।
আব্দুল মতিন সম্পত্তি ক্রয়ের পর তাৎক্ষণিকভাবে দখল না নিলেও পরবর্তীতে গোপনে নিজের নামে খারিজ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকার পতনের পর আব্দুল মতিন প্রভাব খাটিয়ে জমিগুলোর দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন এবং তার সহযোগীদের নিয়ে হরেন্দ্রনাথ সরকারের দুই পুত্রকে নিয়মিত হুমকি ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।
ভুক্তভোগীরা বিষয়টি জানতে পেরে দলিল বাতিল চেয়ে জয়পুরহাট জেলা যুগ্ম জজ ২য় আদালতে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–৩২/২০২০)। একই সঙ্গে হুমকি ও নির্যাতনের বিষয়ে পাঁচবিবি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। মামলা ও অভিযোগের পরও হুমকি অব্যাহত থাকায় পরিবারটি বর্তমানে চরম ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল মতিনের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার বড় ছেলে আব্দুল মোতালেব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “হুমকি ও নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা বৈধভাবে জমি ক্রয় করেছি। দলিল সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তখন দখল নিতে পারিনি।”
পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাফিজ মোঃ রায়হান বলেন, “বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। থানায় দায়ের করা অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”






















