দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি, ভূমির মালিকানা ও সিবিএ নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে এক ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরির দাবিতে চা-শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৯:১৮:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে

দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণসহ ১০ দফা দাবিতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কালিটি চা-বাগানে এক ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন চা-শ্রমিকরা। একই সঙ্গে সম্প্রতি ঘোষিত ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির গেজেট বাতিল, চা-শ্রমিকদের বসতভিটার স্থায়ী মালিকানা প্রদান এবং চা-শ্রমিক ইউনিয়নের (সিবিএ) নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ৯টায় চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মবিরতিতে অংশ নেন কালিটি চা-বাগানের বিপুল সংখ্যক শ্রমিক।
কর্মবিরতি শেষে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কালিটি চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিমা অলমিক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণদাস অলমিক।
সমাবেশে বক্তব্য দেন চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ, শ্রমিকনেতা দয়াল অলমিক, বিশ্বজিত দাস, কার্তিক নাইডু ও সীতারাম অলমিকসহ স্থানীয় শ্রমিক নেতারা।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘোষিত ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বছরে মাত্র ৮ টাকা মজুরি বৃদ্ধি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। বর্তমানে দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে চা-বাগানে বসবাস করলেও চা-শ্রমিকরা এখনো তাদের বসতভিটার স্থায়ী মালিকানা পাননি। ফলে তারা ভূমির অধিকারসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বৈষম্য দূর করে ভূমির স্থায়ী মালিকানা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ বলেন, স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও চা-জনগোষ্ঠীর মানুষ এখনো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। দেশের অন্যতম পরিশ্রমী এই জনগোষ্ঠী সবচেয়ে কম মজুরিতে কাজ করছে। তাই দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি নির্ধারণ এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
সমাবেশ শেষে চা-শ্রমিকরা কালিটি চা-বাগানের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এতে নারী-পুরুষসহ বিপুল সংখ্যক শ্রমিক অংশ নেন।
শ্রমিক নেতারা জানান, দাবি বাস্তবায়নে প্রয়োজন হলে আগামী দিনগুলোতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


























