চট্টগ্রাম ০৩:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা নওগাঁয় ডিবি পুলিশের অভিযানে ৪২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ পটিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, দুই প্রবাসীর ঘরে লুট: স্বর্ণ-নগদ টাকা ও সিসিটিভির হার্ডডিস্ক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বুধবার সকালে ষোলশহর থেকে শুরু হওয়া ৫৫তম জশনে জুলুসে নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখো মানুষ অংশ নেন।

লাখো মানুষের ঢলে মুখর চট্টগ্রাম, জশনে জুলুসে ব্যাপক সমাগম

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৫২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫৫তম জশনে জুলুস। বুধবার সকাল থেকে নগরের ষোলশহর, মুরাদপুর, জিইসি, ওয়াসা ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। আয়োজকদের হিসাবে, নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখো মানুষ জশনে জুলুসে অংশ নেন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা-সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে জশনে জুলুসের কার্যক্রম শুরু হয়। ভোর থেকেই বিভিন্ন বয়সী মানুষ জুলুসে যোগ দিতে ষোলশহর ও মাদ্রাসা মাঠে জড়ো হতে থাকেন। অনেকেই হেঁটে, আবার কেউ ট্রাক ও পিকআপে করে সেখানে পৌঁছান।

জুলুসকে ঘিরে পুরো এলাকায় হামদ-নাত, তাকবির, দরুদ শরিফ, জিকির ও কোরআন তিলাওয়াতের ধ্বনি শোনা যায়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। মুরাদপুর থেকে ওয়াসা মোড় পর্যন্ত সড়কজুড়ে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।

এবারের জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দেন সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) চট্টগ্রামে এ জশনে জুলুসের প্রবর্তন করেন। আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল এ আয়োজন হয়ে আসছে।

জশনে জুলুস উপলক্ষে মুরাদপুর থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত বসেছে ভাসমান মেলা। সেখানে আতর, টুপি, তসবিহ, মেসওয়াক, গামছা, তোয়ালে, পাজামা, পাঞ্জাবি, জুলুসের পতাকা ও বিভিন্ন খাবারের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে।

জুলুসে অংশ নেওয়া মানুষের জন্য বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি, শরবত ও খেজুর বিতরণ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়ক বিভাজকগুলো সাজানো হয় তোরণ, সবুজ পতাকা, ফেস্টুন ও ব্যানারে।

জুলুসের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। মুসল্লিদের সুবিধার জন্য মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক অস্থায়ী শৌচাগার স্থাপন করা হয়।

নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ষোলশহরের আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে জুলুসটি বিবিরহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাস হয়ে পুনরায় জুলুস ময়দানে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।

জশনে জুলুসকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় চট্টগ্রাম নগর পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও জুলুসের পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। জুলুস চলাকালে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

জুলুস চলাকালে লালখান বাজার থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত ফ্লাইওভার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও জানানো হয়। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছিল।

গত বছর চট্টগ্রাম নগরে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুসে পদদলিত হয়ে দুজনের মৃত্যু এবং অন্তত ছয়জন আহত হন। ওই ঘটনার পর এবার জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত বড় কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানিয়েছেন, জুলুসকে কেন্দ্র করে অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন, কুশপুত্তলিকা প্রদর্শনসহ কয়েকটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বড় এই সমাবেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বুধবার সকালে ষোলশহর থেকে শুরু হওয়া ৫৫তম জশনে জুলুসে নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখো মানুষ অংশ নেন।

লাখো মানুষের ঢলে মুখর চট্টগ্রাম, জশনে জুলুসে ব্যাপক সমাগম

আপডেট সময় : ০১:৫২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫৫তম জশনে জুলুস। বুধবার সকাল থেকে নগরের ষোলশহর, মুরাদপুর, জিইসি, ওয়াসা ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। আয়োজকদের হিসাবে, নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখো মানুষ জশনে জুলুসে অংশ নেন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা-সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে জশনে জুলুসের কার্যক্রম শুরু হয়। ভোর থেকেই বিভিন্ন বয়সী মানুষ জুলুসে যোগ দিতে ষোলশহর ও মাদ্রাসা মাঠে জড়ো হতে থাকেন। অনেকেই হেঁটে, আবার কেউ ট্রাক ও পিকআপে করে সেখানে পৌঁছান।

জুলুসকে ঘিরে পুরো এলাকায় হামদ-নাত, তাকবির, দরুদ শরিফ, জিকির ও কোরআন তিলাওয়াতের ধ্বনি শোনা যায়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। মুরাদপুর থেকে ওয়াসা মোড় পর্যন্ত সড়কজুড়ে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।

এবারের জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দেন সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) চট্টগ্রামে এ জশনে জুলুসের প্রবর্তন করেন। আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল এ আয়োজন হয়ে আসছে।

জশনে জুলুস উপলক্ষে মুরাদপুর থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত বসেছে ভাসমান মেলা। সেখানে আতর, টুপি, তসবিহ, মেসওয়াক, গামছা, তোয়ালে, পাজামা, পাঞ্জাবি, জুলুসের পতাকা ও বিভিন্ন খাবারের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে।

জুলুসে অংশ নেওয়া মানুষের জন্য বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি, শরবত ও খেজুর বিতরণ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়ক বিভাজকগুলো সাজানো হয় তোরণ, সবুজ পতাকা, ফেস্টুন ও ব্যানারে।

জুলুসের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। মুসল্লিদের সুবিধার জন্য মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক অস্থায়ী শৌচাগার স্থাপন করা হয়।

নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ষোলশহরের আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে জুলুসটি বিবিরহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাস হয়ে পুনরায় জুলুস ময়দানে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।

জশনে জুলুসকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় চট্টগ্রাম নগর পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও জুলুসের পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। জুলুস চলাকালে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

জুলুস চলাকালে লালখান বাজার থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত ফ্লাইওভার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও জানানো হয়। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছিল।

গত বছর চট্টগ্রাম নগরে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুসে পদদলিত হয়ে দুজনের মৃত্যু এবং অন্তত ছয়জন আহত হন। ওই ঘটনার পর এবার জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত বড় কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানিয়েছেন, জুলুসকে কেন্দ্র করে অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন, কুশপুত্তলিকা প্রদর্শনসহ কয়েকটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বড় এই সমাবেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।