কচুয়াই ইউনিয়নের পূর্ব আজিমপুরে রাত আড়াইটায় সশস্ত্র দলের হানা; স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ, সিসিটিভির হার্ডডিস্কও নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা
পটিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, দুই প্রবাসীর ঘরে লুট: স্বর্ণ-নগদ টাকা ও সিসিটিভির হার্ডডিস্ক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:১৪:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

পটিয়া, চট্টগ্রাম | ৩১ আগস্ট ২০২৬ : চট্টগ্রামের পটিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে দুই প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ডাকাতরা যাওয়ার সময় বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে এর হার্ডডিস্কও নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার (৩০ আগস্ট) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব আজিমপুর গ্রামের আলী মিয়ার বাপের বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, ৬ থেকে ৭ জনের একটি সশস্ত্র দল ওই এলাকায় প্রবেশ করে। তাদের কয়েকজন নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করেন। পরে তারা মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ও মো. নুরুল ইসলাম নামে দুই প্রবাসীর দুটি ঘরে প্রবেশ করে আলমারি খুলে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী জুই ও সুলতানার ভাষ্য, হঠাৎ ৪ থেকে ৫ জন অস্ত্রধারী যুবক তাদের ঘরে প্রবেশ করে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেন। তারা আলমারি খুলে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে চাবি নিয়ে আলমারি খুলে আনুমানিক ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে তারা জানান।
অপর ভুক্তভোগী রুবেল বলেন, তার চাচিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মোবাইল ফোনে কথা বলে দরজা খোলা হয়। পরে ঘর থেকে প্রায় আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায় ডাকাতরা বলে তিনি অভিযোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ফাহিম বলেন, ডাকাত দলের সদস্যরা প্রথমে তার চাচাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিচতলায় প্রবেশ করে। পরে তারা বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং ক্যামেরার হার্ডডিস্ক নিয়ে যায়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ধারণা, ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় কেউ জড়িত থাকতে পারে। তাদের প্রশ্ন, বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার অবস্থান সম্পর্কে ডাকাতরা কীভাবে জানতে পারল। তবে এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
ঘটনার খবর পেয়ে পটিয়া থানার ওসি (তদন্ত) যুযুৎ যশ চাকমার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করবে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। একই সঙ্গে লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রতিবেদকের নোট: এ ঘটনায় কারা জড়িত, ডাকাত দলের সদস্যরা সত্যিই পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করেছিল কি না এবং স্থানীয় কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতেই প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি তুলে ধরা হয়েছে।























