চট্টগ্রাম ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
কালিয়াকৈরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে ঝটিকা মিছিল, খাত্তাব মোল্লাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা কালিয়াকৈরে কুকুরের কামড়ে অতিষ্ঠ পথচারী-শিক্ষার্থীরা,বাড়ছে জলাতঙ্কের শঙ্কা নান্দাইলে চন্ডিপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত রাণীশংকৈলে তীর্ণই নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু রংপুরে লাইসেন্স ছাড়া বেকারি পণ্য উৎপাদন, আল মদিনা লাইভ বেকারিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা কচুয়ার ৯নং কড়ইয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় সাংবাদিক আতাউল করিম হাতীবান্ধায় নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধ সার মজুত: দুই ব্যবসায়ীকে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা নান্দাইলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি

সম্মান হারানোর বেদনায় কষ্টে শিক্ষক সমাজ, প্রযুক্তির যুগে বদলে যাচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক

“হাতে ধরেছিলাম কলম, এখন কারো পাই না সম্মান” — শিক্ষক সমাজের হাহাকার

ইব্রাহিম হাওলাদার,নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:০৯:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬ ১৭৮ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকা | ২৯ মে ২০২৬ :

একসময় সমাজে শিক্ষকতা ছিল সবচেয়ে সম্মানজনক পেশাগুলোর একটি। হাতে কলম ধরা মানুষদের বলা হতো জাতি গঠনের কারিগর। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই সম্মান যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। এখন অনেক শিক্ষকই আক্ষেপ করে বলছেন, “হাতে ধরেছিলাম কলম, এখন কারো পাই না সম্মান”।

শিক্ষকরা বলছেন, আগে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের উপস্থিতি মানেই ছিল শৃঙ্খলা, সম্মান ও ভয়ের এক অনন্য পরিবেশ। একজন শিক্ষকের ধমকেই পুরো ক্লাস নীরব হয়ে যেত। কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কেও এসেছে বড় পরিবর্তন।

মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবভিত্তিক শিক্ষার প্রসারের ফলে অনেক শিক্ষার্থী এখন স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের চেয়ে অনলাইন শিক্ষকদের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এতে শিক্ষকতার পেশাগত মর্যাদা কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, “আমরা ছাত্র গড়ি, মানুষ গড়ি। কিন্তু দিনশেষে আমাদেরকেই কথা শুনতে হয়। ক্লাসে পড়া না পারলে এখন আর বকা দেওয়া যায় না। নম্বর কম দিলে অভিভাবক এসে অভিযোগ করেন, কখনও হুমকিও দেন। সম্মান তো দূরের কথা, ন্যূনতম ভদ্রতাটুকুও এখন পাওয়া কঠিন।”

শিক্ষাবিদদের মতে, সামাজিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের সংকট এবং প্রযুক্তির অতিনির্ভরতার কারণে শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা আগের তুলনায় কমেছে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক এখন ‘সেবা প্রদানকারী’ ও ‘গ্রাহক’ সম্পর্কের মতো হয়ে যাচ্ছে, যা শিক্ষার মৌলিক দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন শিক্ষক কেবল পাঠদান করেন না, তিনি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণ করেন। তাই শিক্ষকের সম্মান রক্ষা করা মানে জাতির ভবিষ্যৎকে সম্মান করা।

প্রতি বছর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের নিয়ে নানা আয়োজন, ব্যানার-ফেস্টুন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হলেও বাস্তবে বছরের অধিকাংশ সময় শিক্ষকরা অবহেলা ও মানসিক চাপের মধ্যেই দায়িত্ব পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সমাজের সচেতন মহলের প্রশ্ন—যে হাতে কলম ধরে মানুষ প্রথম অক্ষর চিনেছে, জ্ঞান অর্জনের পথ খুঁজে পেয়েছে, সেই হাতকে আমরা আর কতদিন অসম্মান করব?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্মান হারানোর বেদনায় কষ্টে শিক্ষক সমাজ, প্রযুক্তির যুগে বদলে যাচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক

“হাতে ধরেছিলাম কলম, এখন কারো পাই না সম্মান” — শিক্ষক সমাজের হাহাকার

আপডেট সময় : ১০:০৯:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

ঢাকা | ২৯ মে ২০২৬ :

একসময় সমাজে শিক্ষকতা ছিল সবচেয়ে সম্মানজনক পেশাগুলোর একটি। হাতে কলম ধরা মানুষদের বলা হতো জাতি গঠনের কারিগর। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই সম্মান যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। এখন অনেক শিক্ষকই আক্ষেপ করে বলছেন, “হাতে ধরেছিলাম কলম, এখন কারো পাই না সম্মান”।

শিক্ষকরা বলছেন, আগে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের উপস্থিতি মানেই ছিল শৃঙ্খলা, সম্মান ও ভয়ের এক অনন্য পরিবেশ। একজন শিক্ষকের ধমকেই পুরো ক্লাস নীরব হয়ে যেত। কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কেও এসেছে বড় পরিবর্তন।

মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবভিত্তিক শিক্ষার প্রসারের ফলে অনেক শিক্ষার্থী এখন স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের চেয়ে অনলাইন শিক্ষকদের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এতে শিক্ষকতার পেশাগত মর্যাদা কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, “আমরা ছাত্র গড়ি, মানুষ গড়ি। কিন্তু দিনশেষে আমাদেরকেই কথা শুনতে হয়। ক্লাসে পড়া না পারলে এখন আর বকা দেওয়া যায় না। নম্বর কম দিলে অভিভাবক এসে অভিযোগ করেন, কখনও হুমকিও দেন। সম্মান তো দূরের কথা, ন্যূনতম ভদ্রতাটুকুও এখন পাওয়া কঠিন।”

শিক্ষাবিদদের মতে, সামাজিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের সংকট এবং প্রযুক্তির অতিনির্ভরতার কারণে শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা আগের তুলনায় কমেছে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক এখন ‘সেবা প্রদানকারী’ ও ‘গ্রাহক’ সম্পর্কের মতো হয়ে যাচ্ছে, যা শিক্ষার মৌলিক দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন শিক্ষক কেবল পাঠদান করেন না, তিনি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণ করেন। তাই শিক্ষকের সম্মান রক্ষা করা মানে জাতির ভবিষ্যৎকে সম্মান করা।

প্রতি বছর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের নিয়ে নানা আয়োজন, ব্যানার-ফেস্টুন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হলেও বাস্তবে বছরের অধিকাংশ সময় শিক্ষকরা অবহেলা ও মানসিক চাপের মধ্যেই দায়িত্ব পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সমাজের সচেতন মহলের প্রশ্ন—যে হাতে কলম ধরে মানুষ প্রথম অক্ষর চিনেছে, জ্ঞান অর্জনের পথ খুঁজে পেয়েছে, সেই হাতকে আমরা আর কতদিন অসম্মান করব?