ঢাকা | ২৯ মে ২০২৬ :

একসময় সমাজে শিক্ষকতা ছিল সবচেয়ে সম্মানজনক পেশাগুলোর একটি। হাতে কলম ধরা মানুষদের বলা হতো জাতি গঠনের কারিগর। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই সম্মান যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। এখন অনেক শিক্ষকই আক্ষেপ করে বলছেন, “হাতে ধরেছিলাম কলম, এখন কারো পাই না সম্মান”।

শিক্ষকরা বলছেন, আগে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের উপস্থিতি মানেই ছিল শৃঙ্খলা, সম্মান ও ভয়ের এক অনন্য পরিবেশ। একজন শিক্ষকের ধমকেই পুরো ক্লাস নীরব হয়ে যেত। কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কেও এসেছে বড় পরিবর্তন।

মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবভিত্তিক শিক্ষার প্রসারের ফলে অনেক শিক্ষার্থী এখন স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের চেয়ে অনলাইন শিক্ষকদের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এতে শিক্ষকতার পেশাগত মর্যাদা কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, “আমরা ছাত্র গড়ি, মানুষ গড়ি। কিন্তু দিনশেষে আমাদেরকেই কথা শুনতে হয়। ক্লাসে পড়া না পারলে এখন আর বকা দেওয়া যায় না। নম্বর কম দিলে অভিভাবক এসে অভিযোগ করেন, কখনও হুমকিও দেন। সম্মান তো দূরের কথা, ন্যূনতম ভদ্রতাটুকুও এখন পাওয়া কঠিন।”

শিক্ষাবিদদের মতে, সামাজিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের সংকট এবং প্রযুক্তির অতিনির্ভরতার কারণে শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা আগের তুলনায় কমেছে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক এখন ‘সেবা প্রদানকারী’ ও ‘গ্রাহক’ সম্পর্কের মতো হয়ে যাচ্ছে, যা শিক্ষার মৌলিক দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন শিক্ষক কেবল পাঠদান করেন না, তিনি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণ করেন। তাই শিক্ষকের সম্মান রক্ষা করা মানে জাতির ভবিষ্যৎকে সম্মান করা।

প্রতি বছর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের নিয়ে নানা আয়োজন, ব্যানার-ফেস্টুন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হলেও বাস্তবে বছরের অধিকাংশ সময় শিক্ষকরা অবহেলা ও মানসিক চাপের মধ্যেই দায়িত্ব পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সমাজের সচেতন মহলের প্রশ্ন—যে হাতে কলম ধরে মানুষ প্রথম অক্ষর চিনেছে, জ্ঞান অর্জনের পথ খুঁজে পেয়েছে, সেই হাতকে আমরা আর কতদিন অসম্মান করব?