বালুমহল ও বাল্কহেড থেকে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ঘিরে দুই পক্ষের বিরোধ প্রকাশ্যে, পুলিশের দাবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
হরিরামপুরে বিএনপির পাল্টাপাল্টি মিছিল, বালুমহল ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগে উত্তেজনা
- আপডেট সময় : ০৯:০৮:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৪৭ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জ, হরিরামপুর | ২৪ আগস্ট ২০২৬ঃ
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার এবং পদ্মা নদীর বালুমহল ও বাল্কহেড থেকে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি মিছিল করেছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) পৃথকভাবে এসব মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীর বালুমহল ও বাল্কহেড থেকে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার পৃথক মিছিল বের করে দুই পক্ষ। একটি মিছিল ‘এলাকাবাসী’ ব্যানারে বিএনপি নেতা ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. বাদল হোসেনের সমর্থকেরা বের করেন। মিছিল থেকে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় এবং স্থানীয় বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিবাদ জানানো হয়।
মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়া মো. বাদল হোসেন অভিযোগ করেন, যুবদল নেতা শাহীন মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জমি দখলসহ বিভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে পদ্মা নদীর বালুমহল ও বাল্কহেড থেকে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাতেই এলাকাবাসীর ব্যানারে মিছিল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির নেতা মোশাররফ হোসেন ও যুবদল নেতা মো. শাহীন মোল্লার নেতৃত্বে আরেকটি মিছিল বের করা হয়। পরে তারা এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন বলেন, “হরিরামপুর উপজেলায় এখনো আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসররা রয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।”
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, আধিপত্য বিস্তার, পদ্মা নদীর বালুমহল ও বাল্কহেড থেকে চাঁদা আদায় এবং দলীয় বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। সোমবারের পাল্টাপাল্টি মিছিলের মধ্য দিয়ে সেই বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়।
মিছিল চলাকালে দুই পক্ষের সমর্থকেরা নিজ নিজ পক্ষের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না হলে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসাইন বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই পক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শেষ করে যার যার মতো চলে গেছে।”
প্রসঙ্গত, হরিরামপুরের লেছড়াগঞ্জসহ পদ্মা নদীর বালুমহল নিয়ে অতীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বাল্কহেডকেন্দ্রিক নানা অভিযোগের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
তবে সোমবারের ঘটনায় অতিরিক্ত চাঁদা আদায় বা অন্য কোনো অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।























